সুনামগঞ্জে ট্রাক চাপায় মোটর সাইকেল...
সুনামগঞ্জের পণ্যবাহী ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল চালক এক কিশোর নিহত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে জগন্নাথপুর পৌর শহরের ইকড়ছই অটোরিকশা স্ট্যান্ড...
এলাকাবাসীর ভাঙচুর-লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর
তাজিদুল ইসলাম
সুনামগঞ্জের ছাতকে চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকটি পরিবার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হামলার সময় এক নারী দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন। ঘটনাটি ঘিরে বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
শুক্রবার সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ভুক্তভোগী ওই নারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এটি শুধুমাত্র চুরির ঘটনা নয়; এর পেছনে গ্রাম্য রাজনীতি ও পূর্বশত্রুতার জের থাকতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “হঠাৎ করেই তারা এসে আমাদের ঘরে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে, মারধর করে-আমরা কিছুই করতে পারিনি।
চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত তারেকের খোঁজ নিয়ে তার বক্তব্যও নেওয়া হয়। তিনি উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং তার বিরুদ্ধেও চুরি- ডাকাতিসহ ৯টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তারেক দাবি করেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তার ভাষ্য, ভাই কর্তৃক বোন ইভা হত্যা মামলার তদন্তে সহযোগিতা করার কারণে তিনি প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন।
একই ঘটনায় ভাঙচুর করা হয়েছে তার শ্বশুর, একই গ্রামের আলী হোসেনের বসতঘর। এছাড়া পাশের আরেকজন ব্যক্তি, যিনি নিজেকে নিরপরাধ দাবি করছেন, তার ঘরেও হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলায় প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে, মেঘ-বৃষ্টির মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে স্থানীয়রা জানান, গত ২৪ মার্চ কুর্শি গ্রামে গরু চুরির অভিযোগে সাইফুল ইসলাম হৃদয় নামের এক যুবককে আটক করে এলাকাবাসী। জিজ্ঞাসাবাদে তারেক ও তার শ্বশুর আলী হোসেনের নাম উঠে আসে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরদিন ২৫ মার্চ স্থানীয় বাজারে বৈঠকে বসেন এলাকাবাসি,ওই বৈঠকে চুর নির্মুলের লক্ষে তারেক ও তার শুশুরের ঘরবাড়ি ভাংচুরের নির্দেশ দেন স্থানীয় মুরব্বিরা পরে ক্ষুব্ধ জনতা তাদের বাড়িতে হামলা চালায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি সদস্য শায়েক মিয়া ও তার সহযোগীরা পূর্বশত্রুতার জেরে এই সুযোগ নিয়েছেন। তারা দাবি করেন, শায়েক মিয়া পূর্বে হত্যা ও মাদক মামলায় জেল খেটেছেন এবং এসব বিষয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করায় তারেককে টার্গেট করা হয়েছে। এছাড়া গ্রাম্য রাজনীতিতে বিরোধ থাকাও এ ঘটনার কারণ হতে পারে বলে অভিযোগ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য শায়েক মিয়া। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি নির্মূলে কাজ করছেন, গ্রামে চুর নির্মুল কমিটি রয়েছে যার মুখপাত্র তিনি। তারেক আলী হোসেন সহ গ্রামে ১৩ জন চুর চক্রের সদস্য রয়েছেন। তাদের জন্য গ্রামটি চুরের গ্রাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বিধায় ছাত্র ও ঢ়ুব সমাজ মিলে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এতে মুরব্বিদের সম্মছিল না। তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইভা হত্যা মামলায় তার নাম জড়ানোও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন তিনি। যদিও মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রামে একটি চোর চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে স্থানীয় যুবসমাজ কাজ করছে।
এদিকে গ্রামের একাদিক মুরব্বিরা জানান, এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে চুরির জন্য কুখ্যাত হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ। তারা প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহযোগিতায় স্থায়ীভাবে চুরি নির্মূলের দাবি জানান।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, প্রকৃত অপরাধী নিরাপদে থাকলেও তাদের ওপরই হামলা চালানো হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
ঘটনার পর শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় ২৭ মার্চ ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চুরির ঘটনায়ও থানায় মামলা দায়ের হয়েছে
টিএ/ছাতক