লন্ডন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত তাজউদ্দিন বাহিনীর তাণ্ডবে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী; নির্যাতন–হামলা–মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে দুই ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন

ছাতকের গহরপুরে তাজউদ্দিন বাহিনীর তাণ্ডব, নিরাপত্তাহীনতায় রাস্তায় গ্রামবাসী

post-title

সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নর গহরপুর গ্রাম এখন আতঙ্কের জনপদ। লন্ডন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত, জেল–খাটা দাগী আসামি ও এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী তাজউদ্দিন এবং তার ‘বাহিনী’র লাগামহীন তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ গ্রামবাসী।

হামলা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, ভাঙচুর এবং এমনকি পবিত্র মসজিদের ভেতরে ঢুকে মুসল্লিদের ওপর মারধরের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে পাকা সড়কে অনুষ্ঠিত হয় দুই ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন। এতে গ্রামটির শত শত যুবক–পুরুষ অংশ নেন।

বছরজুড়ে ‘তাজউদ্দিন বাহিনী’র সন্ত্রাস

গ্রামবাসীর অভিযোগ—‘তাজউদ্দিন বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি সংঘবদ্ধ ক্যাডার গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে। রাতের অন্ধকারে গুপ্ত হামলা, দিনের বেলায় প্রকাশ্যে হুমকি—এ যেন তাদের নিত্যদিনের কর্মকাণ্ড।

গত কয়েক মাসে গ্রামে একাধিক সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও মিথ্যা মামলার ঘটনা ঘটেছে, যার পেছনে তাজউদ্দিন এবং তার হাতে গোনা কয়েকজন অনুসারী ক‌্যাডারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।

গ্রামবাসীর ভাষ্য, ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থায়ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ানো এবং মানুষের ওপর হামলা চালানো তাদের কাছে কোনো বিষয়ই নয়। বরং অভিযোগ রয়েছে—পুলিশি ‘শেল্টার’ পেয়েই তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।


নাড়িয়ে দিয়েছে বিবেক

বৃহস্পতিবার মসজিদের ভেতরে ঢুকে মুসল্লিদের ওপর হামলার ঘটনা গ্রামবাসীর বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ওই হামলায় ১০–১২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে তারা ইসলামের প্রতি প্রকাশ্য অবমাননা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

বক্তারা দাবি করেন, তাজউদ্দিন ও তার সহযোগীদের দাপটের কারণেই এমন ঘটনারও যথাযথ বিচার হয়নি।

গ্রামবাসীর অভিযোগ—জাউয়া বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের একটি অংশ তাজউদ্দিন বাহিনীকে গোপনে সহায়তা দিচ্ছে। ফলে সন্ত্রাসীরা গ্রামে আরও নির্ভীক হয়ে উঠেছে।

তবে গত শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়ে ওসি মিজানুর রহমান দুই পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিলেও গ্রামবাসীর দাবি—সন্ত্রাসীরা কোনো নির্দেশ মানেনি; বরং পরদিনই আরও বেপরোয়া আচরণ করেছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—ইজাদ্দুর রহমান, সৈয়দ আলী, সিকন্দর আলী, আবদুল জব্বার, জুনাব আলী, আব্দুর রহিম, আব্দুল বারি, আব্দুর রহমান, আওয়াল শাহ, ওসমান আলী, কামাল মিয়া, আল আমিন, সমুজ আলী, তখদ্দুছ আলী, মুজিবুর রহমান, পিয়ন, তৈয়মুছ আলী, মইন উদ্দিন, আলা উদ্দিন, সেলিম আহমদসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, তাজউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে লন্ডন বিএনপির নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে আসছে। তার বাহিনীর সন্ত্রাসের কারণে গ্রামে শান্তির লেশমাত্র নেই। “আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ; কিন্তু এই সন্ত্রাসীদের কারণে পুরো গ্রাম অস্থিতিশীল হয়ে গেছে”—বলেন বক্তারা।

গ্রামবাসীর আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, মামলা ও হামলার কারণে গ্রামের পরিবেশ দ্রুত অবনতি ঘটছে।

এক বাসিন্দা বলেন, “মানুষ চায় শান্তি। কিন্তু প্রতিদিনই কোনো না কোনো গোষ্ঠী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক।

মানববন্ধনে উপস্থিত সবাই গহরপুরে শান্তি ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাদের ভাষ্য পুলিশের ওপর সব দায়িত্ব ছেড়ে দিলে চলবে না। রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতৃত্ব এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা দমে যাবে। গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমপি মহোদয়ের সরাসরি উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

টিএ/ছাতক