কীভাবে পাবেন আবেদন করতে যা যা লাগবে

এক নজরে ফ্যামিলি কার্ড

post-title

ফাইল ছবি

দেশের দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে সরকার চালু করতে যাচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। বিশেষভাবে সহায়তার অর্থ পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা নারীর ক্ষমতায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যমান অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তুলনায় ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় সহায়তার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হবে। একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরির মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে উপকারভোগীদের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। এতে সহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও মধ্যস্থতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে দেশের কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করে সারা দেশে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি সিলেট মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মতে ফ্যামিলি কার্ড,মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিসিকের সাবেক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান,ফ্যামিলি কার্ড মূলত একটি বিশেষ ডেটাবেস ভিত্তিক পরিচয়পত্র, যার মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো নিয়মিত সরকারি আর্থিক অনুদান পাবেন।ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকার তিনটি ধাপে কাজ করছে ফ্যামিলি কার্ডের মূল লক্ষ্য ও সুবিধা আর্থিক সহায়তা,খাদ্য নিরাপত্তা সার্বজনীন অন্তর্ভুক্তি।

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী জানান, দলের ঘোষিত এই কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য হলো ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবার সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারবে। দেশে বর্তমানে চালু থাকা বিভিন্ন কার্ড ও ভাতা কর্মসূচির তুলনায় ফ্যামিলি কার্ডের আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণেরও বেশি হবে। এই ফ্যামিলি কার্ড দেশের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে  আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো যারা মুদ্রাস্ফীতির কারণে সংকটে আছে, তারা এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবে।

ফ্যামিলি কার্ড আসলে কী?

ফ্যামিলি কার্ড মূলত একটি বিশেষ ডেটাবেস ভিত্তিক পরিচয়পত্র, যার মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো নিয়মিত সরকারি আর্থিক অনুদান পাবে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী জেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, এই কার্ডের অর্থ সরাসরি পরিবারের গৃহকর্ত্রীর (Female Head of Household) হাতে তুলে দেওয়া হবে, যা নারীর ক্ষমতায়ন (Women Empowerment) নিশ্চিত করবে। সরকার আগামী ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে দেশের ৫০ শতাংশের বেশি যোগ্য পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।


ফ্যামিলি কার্ডের বিশেষ সুবিধাসমূহ 

নতুন সরকারের এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এর প্রধান সুবিধাগুলো হলো:

ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ (Double Allowance): বর্তমানে প্রচলিত বয়স্ক ভাতা (Old Age Allowance), বিধবা ভাতা বা অন্যান্য ভাতার তুলনায় এই কার্ডের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ অন্তত দ্বিগুণ হবে।

নারীর আর্থিক স্বাধীনতা: কার্ডের অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী বা গৃহকর্ত্রীর কাছে পৌঁছাবে। এতে নারীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

দ্রুত বাস্তবায়ন: দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে আগামী ঈদুল ফিতরের (Eid-ul-Fitr) আগেই পাইলট প্রকল্প আকারে কয়েকটি এলাকায় এর কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

মৌলিক চাহিদা পূরণ: বেকার বা আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলো নিয়মিত ভাতার মাধ্যমে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে পারবে।

অনেকেই প্রশ্ন করছেন ফ্যামিলি কার্ড কিভাবে পাবো (How to get Family Card) বা এর নিয়ম কী? আবেদন প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে সরকার ধাপে ধাপে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া (Application Process) স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকার তিনটি ধাপে কাজ করছে:

১. উপকমিটির প্রতিবেদন: আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে উপকমিটি তাদের চূড়ান্ত রূপরেখা জমা দেবে, যেখানে ভাতার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ও নীতিমালা উল্লেখ থাকবে।

২. পাইলট প্রজেক্ট ও তালিকাভুক্তি: ঈদের আগে পাইলট প্রজেক্ট শুরু হলে, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রকৃত অভাবগ্রস্তদের তালিকা (Beneficiary List) তৈরি করা হবে।

৩. এলাকাভিত্তিক সম্প্রসারণ: মাদারীপুরের শিবচরসহ নির্দিষ্ট এলাকায় সফলতার পর দেশের প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে এটি সম্প্রসারিত হবে। তখন মেম্বার বা কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে সরাসরি ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে।

৪. অনলাইন আবেদন (Family Card Online Application): স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এনআইডি (NID) ব্যবহার করে অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণের পরিকল্পনা চলছে। আপাতত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কার্যালয়ে যোগাযোগ রাখা সবচেয়ে উত্তম মাধ্যম।

ফ্যামিলি কার্ড অনলাইন প্রক্রিয়া (Family Card Online Application)

ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারাবাহিকতায় এই কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়াটিকে দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকার একটি অনলাইন পোর্টাল (Online Portal) চালুর পরিকল্পনা করছে। যোগ্য পরিবারগুলোর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card) ব্যবহার করে অনলাইনে ডেটাবেস তৈরি করা হবে। যখনই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা অ্যাপ উন্মুক্ত করা হবে, তখন ঘরে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে আবেদন করা সম্ভব হবে। আপাতত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কার্যালয়ে যোগাযোগ রাখাই সবচেয়ে উত্তম।

জুয়ে/সিলেট