৯৫০ রাউন্ড শর্ট গানের কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনায় সিলেট রেঞ্জ শ্রেষ্ঠ এসআই রহিম

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেট রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুর রহিম জিবান।  বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি)  দুপুরে সিলেট রেঞ্জার ডিআইজি  তাকে  রেঞ্জ  শ্রেষ্ঠ এসআই ঘোষণা করেছেন।

জানা যায়,সুনামগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযান ২০২৫ সালের ১৫  নভেম্বর। এতে মোট ৯৫০ রাউন্ড ১২ বোর শর্টগানের কার্তুজ জব্দ করা হয় এবং ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন-সুনামগঞ্জ সদর থানার রাধানগর এলাকার আমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মামুন মিয়া ও মো. উবায়দুল। ডিবি পুলিশের এসআই আব্দুর রহিম জিবান গোপন তত্ত্বের ভিত্তিতে  অভিযান পরিচালনা করেন। সফল অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কার্তুজ উদ্ধার ও আসামি গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তাকে  সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ হিসেবে  নির্বাচন করে রেঞ্জ  ডিআইজি  কার্যালয়, সিলেট।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মাননা এসআই আব্দুর রহিম  জিবান এর হাতে তুলে দেন  রেঞ্জ ডিআইজি। 

জানুয়ারি/২০২৬ খ্রি. মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট রেঞ্জের সম্মানিত ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান।  সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নাছির উদ্দিন আহমেদ, পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), (ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট), রেঞ্জ ডিআইজি’র কার্যালয়, সিলেট;   নাছির উদ্দিন আহমেদ, কমান্ড্যান্ট (ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে), পুলিশ সুপার, আরআরএফ, সিলেট;  মোঃ হাসান নাহিদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার  আবু বাসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন পিপিএম।

সভা  সঞ্চালনা করেন ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার, (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি), ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি (এ অ্যান্ড এফ), মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক এসআই আব্দুর রহিম জিবান বর্তমানে তিনি সিলেটের  সুনামগঞ্জে   জেলা গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত আছেন  সাব ইন্সপেক্টর হিসেবে।

রেঞ্জ ডিআইজি  সূত্র জানায় , আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাহসী ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় তিনি এই স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তার এই সাফল্যে সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। BSS পাস করে আব্দুর রহিম জিবান  বাংলাদেশ পুলিশে  যোগদান করেন ২০০৪ সালে ।  যাত্রা শুরু হয়  আর আর এফ  সিলেট থেকে। পরবর্তীতে    সদর দপ্তর, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব),  চট্টগ্রাম রেঞ্জ, চট্টগ্রাম জেলা, কুমিল্লা জেলা, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ, মৌলভীবাজার জেলার জেলা,  বর্তমানে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের  পুলিশের  গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি  পুলিশিং সেবা  দিতে আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছেন  মৌলভীবাজার  জেলার কুলাঊড়া ও শ্রীমঙ্গলে এসআই আব্দুর রহিম জীবান।

শ্রীমঙ্গলে গাড়ি চোর, কুলাউড়ায় মোটরসাইকেল ও গাড়ি চোর  অনেকে মালামালসহ  আটক হয়েছেন তার হাতে।  মাদকের শহর কেন্দ্রিক  অনেক আস্তানা বন্ধ হয়েছে  তার আন্তরিক প্রচেষ্টায়। শুধু তাই নয়  মাদকাসক্ত  বিপথগামী  অনেক যুবককে নিয়ে  অনেক ভালো ভালো পরিবারের অস্থিরতা দূর করতে  মাদকাসক্ত অনেক যুবককে  শাসন ও কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে   স্বাভাবিক জীবনে  ফিরে এনেছেন  মানবিক এ পুলিশ কর্মকর্তা।

কর্মদক্ষতা  ও  দায়িত্বশীলতার  কারণে  তিনি ২০১২ সালে এএসআই, ২০১৮ সালে ঊপ পুলিশ পরিদর্শক  হিসেবে পদোন্নতি পান।  নীরব নিস্তব্ধ  তার মধ্যে   কর্মদক্ষ,  আচরণ  দোয়া, আশীর্বাদ পাওয়ার  যোগ্য।   চাকুরী জীবনে  অনেক চেলেঞ্জিং  ও  ক্লু লেস মামলার তদন্তবার গ্রহণ করা এবং  তদন্তে  প্রতিয়মান  অপরাধে পাহাড় সমান  এমন আসামিদের শনাক্ত পূর্বক আইনের আওতায় আনা যার ভাগ্য। 

শুধু তাই নয়  প্রভাবশালী প্রতিপক্ষ এর বিপরীত দিকে থাকা নিরীহ অনেক  বাদী ও বাদীনির  মামলা তদন্তে  সাহসিকতার কারণে সুবিচার পেয়েছে অনেক অসহায় পরিবার।

আবার  কিছু জায়গায় অভিযোগের তদন্তে নেমে বীট পুলিশিং এর মাধ্যমে উভয় পক্ষের  সমস্যা নিরসনকল্পে নিজ উদ্যোগে নিয়েছেন ব্যবস্থা এমনই এক পুলিশ কর্মকর্তা  উপ পুলিশ পরিদর্শক  আব্দুর রহিম  জিবান।

সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলা মূলত ভারতের মনিপুর থেকে আসা বরাক নদী এবং সিলেটের কুশিয়ারার মোহনা (তিন নদীর মোহনা)। আব্দুর রহিম জিবান এর গ্রামের বাড়ি জকিগঞ্জ ঊপজেলার নূর পুরে। সেখানকার সংস্কৃতি ধর্মীয় অনুশাসনে পরিচালিত হওয়ায়  তার বেড়ে ওঠা অনেকটা  ইসলাম ধর্মীয় অনুশাসন মেনে পারিবারিকভাবে।  যে কারণে তার মধ্যে  রয়েছে মানবিকতা ও ধার্মিকতা।

এসএ/সিলেট