সুনামগঞ্জ-৩ : প্রবাসীদের মিলন-মেলায় পরিণত : উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে প্রচারনা

post-title

সুনামগঞ্জ -৩ আসনে এমপি প্রার্থী বাম থেকে, কয়ছর আহমদ,আনোয়ার হোসেন,শাহিনূর পাশা ও তালহা আলম।

এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  সুনামগঞ্জ -৩ প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় উৎসবমূখর পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারনা চলছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে কেন্দ্র করে এ আসনের দুটি উপজেলা-ই প্রবাসী দের মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে। ইংল্যান্ড, আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শত শত প্রবাসী নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ আসনে ভোটযুদ্ধে ৭জন প্রার্থী  অংশ নিয়েছেন তাদের মধ্যে চারজন প্রবাসী। তিনজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও একজন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। অপর তিনজন স্বদেশী হলেও তাদের আত্বীয় স্বজন রয়েছেন প্রবাসে। তাঁদেরও প্রবাসে যাতায়াত রয়েছে ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনে অংশ নেয়া ৭ প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ (ধানের শীষ), যুক্তরাজ্য জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের  সাবেক সভাপতি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র আনোয়ার হোসেন (তালা), খেলাফত মজলিসের প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী মুশতাক আহমেদ ( দেয়াল ঘড়ি) আমার বাংলাদেশ এবি পার্টি মনোনীত প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সৈয়দ তালহা আলম( ঈগল পাখি) প্রতীকে ভোটযুদ্ধে লড়ছেন।

অপর স্বদেশী চার জন প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী( রিকশা), স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু খালেদ তুষার (টেবিলঘড়ি) ও হুসাইন আহমেদ(ফুটবল)। এই তিনজনের মধ্যে মাওলানা শাহীনুুর পাশা চৌধুরী ও আবু খালেদ তুষার যুক্তরাজ্যে যাওয়া আসা রয়েছে । নির্বাচনী তফসিলের আগে শাহীনুর পাশা চৌধুরী লন্ডন ঘুরে এসেছেন। সেখানে তিনি খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু খালেদ তুষার দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যে ছিলেন। এখন ঢাকায় আইনপেশায় থাকলেও যাতায়াত করেন লন্ডনে। তাই এ দুই জন হাফ লন্ডনী হিসেবে পরিচিত। অপর প্রার্থী হুসাইন আহমেদ দেশে থাকলেও প্রবাসী স্বজনদের আর্থিক সহায়তায় নির্বাচন করছেন।

নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী  ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার প্রচারণা শুরু হয়েছে  । এসব প্রচার প্রচারণা ও নির্বাচনী উৎসবে অংশ নিতে এসব প্রার্থীদের সমর্থনে তাদের স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ঝাঁকে ঝাঁকে দেশে আসছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদের সমর্থনে শত শত লন্ডন প্রবাসী দেশে এসে  তাঁর সমর্থনে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় প্রতিদিন নির্বাচনী উৎসবে শরিক হতে দল বেঁধে ঝাঁকে ঝাঁকে প্রবাসীরা দেশে আসছেন।

প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলায় নির্বাচন মানেই ভোটের উৎসব। স্হানীয় সরকারের সকল নির্বাচনের পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীরা দেশে এসে প্রার্থী হওয়া রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।

এবার চারজন প্রবাসী এ আসন থেকে ভোটযুদ্ধে লড়ছেন। গত দুই মাসে কমপক্ষে কয়েক শতাধিক প্রবাসী নির্বাচনী উৎসবে শরিক হতে দেশে আসার খবর পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি এসেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদের সমর্থনে।

যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারন সম্পাদক পৌরসভার বাসিন্দা মোহাম্মদ আবুল হোসেন জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর আহমেদের সমর্থনে জাতীয়তাবাদী পরিবারের শত শত নেতাকর্মী এখন নির্বাচনী এলাকায় এসে  ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। আমরা একঝাঁক বন্ধু সহযোদ্ধা মিলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন পর ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ায় মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে সাড়া দিচ্ছেন। তাই  প্রচারণায় অংশ নিয়ে ভালো লাগছে।

ভোটের মাঠে প্রবাসীরা অনেকটা ফ্যাক্টর এমন কথা জানিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক এম এ কাদির বলেন,  প্রবাসীরা যেহেতু তাদের কষ্টার্জিত অর্থ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক মানবিক ও সেবামূলক কাজে ব্যয় করেন তাই এলাকার মানুষ তাদের কে পছন্দ করেন তাদের কথায় ভোট দেন। তিনি বলেন, জগন্নাথপুর  উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে ৫ টি ইউনিয়নেই প্রবাসীদের মানুষ ভালোবেসে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিল। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী প্রার্থীদের আধিক্য রয়েছে। তাই প্রবাসীরা দলে দলে  দেশে এসেছেন। নির্বাচনী উৎসবে এটা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির টানা তিনবারের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ কয়ছর আহমেদ। তিনি এ আসনে বিএনপির  প্রার্থী হওয়ায় যুক্তরাজ্য বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী এখন নির্বাচনী এলাকায় এমন কথা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজাতুর রেজা বলেন, যুক্তরাজ্য বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা কমপক্ষে ৫ শতাধিক প্রবাসী  ইতিমধ্যে দেশে এসে নির্বাচনী এলাকায়  প্রচারণায় অংশ গ্রহণ করেছেন।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা মির্জা নিকসন জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিজ মাতৃভূমি তে এসে স্বাধিনভাবে  নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নিতে পেরে খুবই ভাল লাগছে। সময় যত ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী  প্রচারণা ততই জমে উঠেছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর ১০ দলীয় জোট উন্মুক্ত  প্রার্থী শাহীনুুর পাশা চৌধুরী প্রবাসী না হলেও তাঁর সমর্থনে বেশ কিছু প্রবাসী দেশে এসে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন জগন্নাথপুর উপজেলা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান  সাজাওয়ার। তিনি বলেন, কমপক্ষে ২০ জন প্রবাসী রিকশা প্রতীকের প্রচারণায় আছেন।

খেলাফত মজলিসের দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের  প্রার্থী মুশতাক আহমেদ জানান  যুক্তরাজ্যে তাঁর নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের কমিটি রয়েছে। সেই কমিটির সাধারণ সম্পাদক ধলা মিয়া তাঁর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে দেশে এসেছেন।

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী ব্যারিষ্টার আনোয়ার হোসেনের পক্ষে কাজ করতে যুক্তরাজ্য থেকে তাঁর স্বজন শুভানুধ্যায়ীরা দেশে এসে প্রচারণায় অংশ গ্রহণ করেছেন। ব্যারিষ্টার আনোয়ার দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন।তাই তাঁর পক্ষেও প্রবাসীদের একটি অংশ প্রচারণায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর এক সমর্থক।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলমের পক্ষে রয়েছে প্রবাসীদের জোরালো  প্রচারণা। তাঁর পক্ষে প্রবাসীদের নির্বাচনী মাঠে  প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। ইতিমধ্যে তাঁর সমর্থনে  প্রবাসী আত্বীয় স্বজন ও রাজনৈতিক সমর্থক  দেশে এসে কাজ করতে শুরু করেছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির যুক্তরাজ্য শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর আহমেদের সমর্থনে তাঁর ভাই জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ একসভা করছেন। এতে তিনি দলমতের উর্ধে উঠে  প্রবাসীদের ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত জগন্নাথপুরবাসীর বৃহৎ সংগঠন জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইতি মধ্যে কয়ছর আহমদের সমর্থনে জগন্নাথপুরে এক সভা করেছেন।

ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মুহিব চৌধুরী বলেন, কয়ছর এম আহমেদ আমাদের ট্রাস্টের একজন ট্রাস্টি তাই তাঁর সমর্থনে দেশে এসে  সকল ট্রাস্টি কে দলমতের উর্ধে উঠে কাজ করতে আহ্বান জানিয়েছি।

এসএ/সিলেট