জৈন্তাপুর সীমান্তে চোরাকারবারিদের তাণ্ডব, বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি আহত ৪

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় চোরাকারবারিদের সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় বিজিবি সদস্যসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ৭টার দিকে জৈন্তাপুর থানাধীন নিজপাট ইউনিয়নের টিপরাখলা ঘুড়িমারা এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মেইন পিলার ১২৮৮ থেকে আনুমানিক ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে আনা ছয়টি গরু আটক করেন জৈন্তাপুর রাজবাড়ী বিওপির বিজিবি সদস্যরা।

এ সময় বিজিবির হাবিলদার মো. কামাল হোসেন  ও ল্যান্স নায়েক মো. ওমর ফারুকসহ পাঁচ-ছয়জন সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় চোরাকারবারিদের সংঘর্ষ বাঁধে।

সংঘর্ষে ল্যান্স নায়েক মো. ওমর ফারুক আহত হন। এ ঘটনায় বিজিবি বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার জৈন্তাপুর মডেল থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করে।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জৈন্তাপুর থানাধীন গৌরীশংকর টিপরাখোলা এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে পুনরায় চোরাকারবারিদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে চোরাকারবারিরা বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে এক বিজিবি সদস্য মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রাত আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে বিজিবি সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাঁচ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন। স্থানীয়দের দাবি, গুলির সংখ্যা আরও বেশি ছিল। এ সময় চোরাকারবারিরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিজিবির বিরুদ্ধে উস্কে দেয়, ফলে বিজিবি সদস্যরা কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

গুলির ঘটনায় আহত হন, মো. আতিক আহমেদ। এছাড়া মো. রায়হান মিয়া ও নুরজাহান আহত হন। অন্যদিকে, রাজবাড়ী বিওপির বিজিবি সদস্য সাহাঙ্গীর আলম মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হন।

আহতদের জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে গুরুতর অবস্থায় গুলিবিদ্ধ আতিক আহমেদ ও বিজিবি সদস্য সাহাঙ্গীর আলমকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।  আহত আতিক আহমেদ গৌরীশংকর গ্রামের মৃত নূর নবীর ছেলে।

ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কানাইঘাট সার্কেল) সালমান নূর আলম ও জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লাসহ পুলিশ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং হরিপুর গ্যাসফিল্ড সেনাক্যাম্পের (২৭ বীর) একটি টহল দল ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল এলাকায় উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিজিবি সদস্যদের নিরাপদে বিওপিতে পৌঁছে দেয়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা। এ বিষয়ে ১৯ বিজিবির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এসএ/সিলেট