ধানের শীষে একটি ভোট বদলে...
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মীনি তাহসিনা...
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত
সিলেটে চুনাপাথরের তীব্র সংকটে বন্ধ হয়ে আছে দেশের অন্যতম প্রাচীন শিল্প প্রতিষ্ঠান ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির উৎপাদন। এতে বিঘ্ন ঘটছে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শিল্প কারখানার কার্যক্রমেও।
অথচ চুনাপাথরের খনি থাকা সত্ত্বেও সরকারি অনুমতি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা না থাকায় উত্তোলন কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। পর্যটনের অজুহাতে স্থানীয় প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সিলেট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জালালাবাদ লাইম ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড ট্রেডিং অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনা অংশীদার আফছার উদ্দিন। তিনি বলেন, সরকারের সদিচ্ছা ও হস্তক্ষেপ পেলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং এলাকায় তাদের মালিকানাধীন জায়গা থেকে চুনাপাথর উত্তোলন সম্ভব। এতে একদিকে যেমন চুনাপাথরের সংকট কাটবে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আফছার উদ্দিন জানান, ১৯৭২ সালে গোয়াইনঘাট উপজেলার চৈলাখাল মৌজার তৃতীয় খন্ডের জাফলং এলাকায় অবস্থিত ৬ একর ৭৫ শতক জমি খনিজ উত্তোলনের জন্য সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেয় জালালাবাদ লাইম ম্যানুফ্যাকচারার্স। পরবর্তীতে আরও ৭৮ একর ২৭ শতক জমি ইজারা দেওয়া হলে প্রকল্প এলাকায় চুনাপাথর উত্তোলনও শুরু হয়। তবে এক পর্যায়ে প্রশাসনিক বাধার কারণে প্রকল্প কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
এ ঘটনায় ২০০৭ সালে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হলে চুনাপাথর উত্তোলনে কোনো ধরনের বাধা না দিতে নির্দেশ দেন আদালত। পরবর্তীতে খনিজ ব্যুরো ইজারা বাতিল করলে তার বিরুদ্ধে পুনরায় রিট করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালে উচ্চ আদালত ইজারা বাতিলের চিঠিকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং ভোগদখল বজায় রাখতে স্থিতাবস্থার আদেশ দেন।
আফছার উদ্দিন অভিযোগ করেন, বিগত কয়েক বছর ধরে আদালতের সব নথিপত্র জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হলেও কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। বরং বিভিন্ন সময় অভিযানের নামে জরিমানা ও হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং খনিজ উত্তোলনের যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তাদের মালিকানাধীন জায়গায় পর্যটনের নামে অন্যদের ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হলেও কোম্পানিকে সেখানে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। উল্টো প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেন তিনি। বর্তমান সিলেটের জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধেও অসহযোগিতার অভিযোগ তোলেন আফছার উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সিলেটে চুনাপাথরের সংকটের কারণে সিমেন্টসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানা চরম সমস্যায় পড়েছে। দেশের সিমেন্ট শিল্পের বড় প্রতিষ্ঠান ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে চুনাপাথর আমদানি করলেও বর্তমানে রুজ্জুপথ বন্ধ থাকায় আমদানি বন্ধ রয়েছে। ফলে চুনাপাথরের অভাবে সিমেন্ট উৎপাদন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
জালালাবাদ লাইম কর্তৃপক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মোহাম্মদ ইউনুসের কাছে জাফলং এলাকার চুনাপাথর খনি দ্রুত চালু করা এবং মালিকানাধীন জমিতে যাতে কেউ হস্তক্ষেপ করতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন, মাহিন মোসলেহ, শহীদুল্লাহ কায়সার, ফয়সল আহমদ ও সাহিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
এসএ/সিলেট