সিলেট পলিটেকনিকে স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত

দেশকে এগিয়ে নিতে হলে কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে: আরিফুল হক চৌধুরী

post-title

ছবি সংগৃহীত

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বিদেশে কারিগরি শিক্ষার ডিমান্ড আছে, কিন্তু দক্ষ শ্রমিক নেই। মালয়েশিয়া, জাপান, কোরিয়া দক্ষ জনবল নেবে। কিন্তু আমরা সে অনুযায়ী জনবল পাঠাতে পারছি না।

দেশে কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নাই। সেজন্য কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি বিদেশি ভাষাও শিখতে হবে। জাপানে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর জন্য ৪০ জন জাপানী ভাষার শিক্ষক নেওয়া হয়েছে। তারা ভাষা শিক্ষা দিচ্ছেন। বিশ্বের সব জায়গায়ই দক্ষ শ্রমিকদের চাহিদা রয়েছে। সেজন্য আমাদের ছেলেমেয়েদের দক্ষ হতে হবে। জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করে লাভনেই। কারণ সে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

শুক্রবার সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে 'স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন' প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আঞ্চলিক 'স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন' উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য রালি, কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বিষয়ক একটি সেমিনার এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আরিফুল হক বলেন, আমি আশা করবো তোমরা ছেলে-মেয়েরা যারা আছো, অনেকের মনে হতে পারে টেকনিক্যাল স্কুলে পড়ি, পলিটেকনিকে ডিপ্লোমা করে কি হবে। আরে ভাই ডিপ্লোমার যে কী ডিমান্ড আছে, সেটা তুমি বুঝতে পারবা না। এখন ডিপ্লোমা মানেই দেশ যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হয়, ডিপ্লোমাদেরকে ডিপ্লোমা কোর্স করে এগিয়ে যেতে হবে। কাজেই তোমরা উদ্বুদ্ধ হও এবং মনোযোগী হয়ে কাজ করো। পাশাপাশি শুধু আমাদের এই কোর্স কমপ্লিট করলে হবে না। এর সঙ্গে আমি চেষ্টা করবো যে এখানে কারিগরি প্রশিক্ষণের।

এছাড়া ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সেরও। ডিপ্লোমার পাশাপাশি তাতে হবে কী, একসাথে প্রশিক্ষণ হলো একটা সরকারি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে তার সার্টিফিকেট পেল এবং একই সাথে যদি সে ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সটা কমপ্লিট করতে পারে,  আমরা এখান থেকে বাই-প্রোডাক্ট দিতে পারবো। তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন আগে শিক্ষামন্ত্রী আসছিলেন আমি বললাম- যে জেলায় ৮৫০টা প্রাইমারি শিক্ষক পদ শূন্য, সে জেলায় কি করে আশা করেন? উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা কিংবা কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে আমরা লোক কোত্থেকে দেব? যেখানে আমাদেরকে প্রাইমারি শিক্ষা দেওয়ার শিক্ষক নাই। এটা উনি যাওয়ার পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটা দেখেছেন। অনতিবিলম্বে খুব শিগগিরই এই এলাকায় শূন্যপদগুলো পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফ্যামিলি কার্ড, তারপরে কৃষি কার্ডের মাধ্যমে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন এর সিলেট অঞ্চলের ১৪টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৪২টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে, যার মধ্য থেকে সেরা ৩টি উদ্ভাবন ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়। কারিগরি শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ এবং তাদের নতুন নতুন উদ্ভাবন ও আবিষ্কার সবার সামনে তুলে ধরার অনন্য এ প্রতিযোগিতাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন Accelerating and Strengthening Skills for Economic Transformation (ASSET) প্রকল্প আয়োজন করে।

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ও সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রিহান উদ্দিন। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ASSET প্রকল্পের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সামসুর রহমান খান। এছাড়া প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ASSET প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক রবীন্দ্রনাথ মাহাত।

এসএ/সিলেট