সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জামায়াতের...
নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে শনিবার সিলেট আসছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার বিকেল ৩টায় ঐতিসাহিক সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে...
সিলেটে প্রেসক্লাবে মতবিনিময়কালে ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন প্রধানের আশাবাদ
ছবি সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের(ইওএম) প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস আইজাবস বলেছেন, বাংলাদেশের সাথে ইই্উ’র সম্পর্ক পুরনো ও দীর্ঘদিনের। ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি নতুন পার্লামেন্ট গঠিত হবে এবং একটি গতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেশটি আবির্ভূত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শুক্রবার বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রেসক্লাবের আমীনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে ব্রিফিংকালে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন-সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূর ও ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দলের প্রেস অফিসার এভারহার্ড লিউই। সভা সঞ্চালনা করেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইভারস আইজাবস বলেন, ঐতিহাসিক এই নির্বাচন ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছভাবে আয়োজন করা জরুরি।
স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা এবং হস্তক্ষেপহীনতা-এই তিনটি কারিগরি মূল্যায়ণ নীতির ওপর ভিত্তি করে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে আইজাবস বলেন, আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করব, কিন্তু ফলাফল প্রত্যয়ন করব না। এই নির্বাচন কেবল বাংলাদেশের জনগণের। বাংলাদেশ একটি অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম বলে ইইউ মনে করে। তিনি জানান, ভোটের ২দিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি ইইউইওএম ঢাকায় একটি প্রাথমিক বিবৃতি প্রকাশ করবে এবং সংবাদ সম্মেলন করবে। ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশ তুলে ধরে একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রায় দুই মাস পর প্রকাশিত হবে এবং কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান।
মিশন প্রধান বলেন, মিশনটির পূর্ণাঙ্গ জনবলে ইইউ’র সব সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ড থেকে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক যুক্ত হবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকায় অবস্থানরত ১১ জন বিশ্লেষকের একটি মূল দল, ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক, ভোটের ঠিক আগের দিন নিযুক্ত ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদার দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরা। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধি দলও মিশনকে আরো শক্তিশালী করবে।
ইইউ ইওএম পর্যবেক্ষকরা কঠোর আচরণবিধি মেনে এবং মিশনটি ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নীতিমালার ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হয় বলে জানান আইজাবস। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইইউ পর্যবেক্ষক দলের কাজও জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে সহায়ক হবে।
আইজাবস বলেন, ইইউ ইওএম নারী, যুবক এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীসহ রাজনৈতিক ও নাগরিক অংশগ্রহণের সামগ্রিক পরিবেশও মূল্যায়ন করবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণ ইউনিটগুলো ভোটাররা কতটা তথ্যসমৃদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হচ্ছেন, তা মূল্যায়ন করবে বলে জানান তিনি।
প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ সাংবাদিকদের মধ্যে অংশ নেন ও উপস্থিত ছিলেন- সাবেক সভাপতি ও ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ডিভিশনাল করেসপন্ডেট ইকবাল সিদ্দিকী, দৈনিক সিলেট বাণীর নির্বাহী সম্পাদক এম এ হান্নান, বেতারের মহানগর সংবাদদাতা মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন, দৈনিক নয়া দিগন্তের ব্যুরো প্রধান আবদুল কাদের তাপাদার, দৈনিক আমার দেশের ব্যুরো প্রধান খালেদ আহমদ, দৈনিক ইত্তেফাকের ব্যুরো প্রধান হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, আরটিভির স্টাফ রিপোর্টার কামকামুর রাজ্জাক রুনু, দৈনিক সিলেট বাণীর চিফ ফটো সাংবাদিক আতাউর রহমান আতা, বাসসের ব্যুরো প্রধান সেলিম আউয়াল, দৈনিক প্রভাতবেলা সম্পাদক কবীর আহমদ সোহেল, দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার মো. মুহিবুর রহমান, চ্যানেল এস’র ব্যুরো প্রধান মো. মঈন উদ্দিন মনজু, ডেইলি স্টারের সিলেট প্রতিনিধি দ্বোহা চৌধুরী, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর সিনিয়র রিপোর্টার আনাস হাবিব কলিন্স, দৈনিক সংগ্রামের ব্যুরো প্রধান কবির আহমদ, দৈনিক কাজির বাজারের বার্তা সম্পাদক সোয়েব বাসিত, দৈনিক জালালাবাদের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক আহবাব মোস্তফা খান, দেশ টিভির সিলেট প্রতিনিধি খালেদ আহমদ, দৈনিক প্রথম আলোর সিলেট প্রতিনিধি মানাউবী সিংহ শুভ, মোহনা টিভির ব্যুরো প্রধান আব্দুল আউয়াল চৌধুরী শিপার, একাত্তর টিভির সিনিয়র রিপোর্টার সাকিব আহমদ মিঠু, আমার দেশ-এর ফটোসাংবাদিক এ এইচ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম) নিযুক্ত করেছে।ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য আইজাবসের নেতৃত্বে মিশনটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকের আসার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হচ্ছে।দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় নিযুক্ত হবেন। ২০০৮ সালের পর এবার দেশে প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন হিসেবে এটি চিহ্নিত হবে।
সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূর সিলেট প্রেসক্লাবে মতবিনিময়ের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন অবজারভেশন মিশন প্রধানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান।
এসএ/সিলেট