সিলেট দেখার স্বপ্ন ছিল, দেখে মুগ্ধ হয়েছি : ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক লিন্ডা ইয়ন

post-title

ছবি সংগৃহীত

দীর্ঘ ৪২ বছর শিক্ষকতা জীবনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো সিলেটে এসেছেন ব্রিটিশ নাগরিক ও শিক্ষাবিদ লিন্ডা ইয়ন। শৈশব থেকেই তার মনে লালিত ছিল সিলেট দেখার স্বপ্ন। অবশেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয় চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি।

লন্ডন শহরের ক্যাস শিশু কেন্দ্রের প্রধান এবং স্যার জন ক্যাস ফাউন্ডেশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লিন্ডা ইয়ন টাওয়ার হ্যামলেটস, হ্যাকনি ও লুইশামসহ লন্ডনের বিভিন্ন স্কুলে দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা করেছেন। গত বছরের শেষ দিকে তিনি শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন।

১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিমানে করে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে পরদিন সিলেটে পৌঁছান তিনি। সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক জেমি বেগম ও রুবেল আহমদ। সিলেটে পৌঁছেই তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বাংলাদেশের পতাকার আদলে কেক কেটে তাকে বরণ করা হয় এবং সিলেটের ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পরে তরুছায়া মহিলা সংস্থার পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে লিন্ডা ইয়ন বলেন, তার শিক্ষকতা জীবনের বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল সিলেটি শিশুদের পড়ানোর অভিজ্ঞতা। তখন অনেক শিশু ইংরেজিতে কথা বলতে পারত না, সবাই সিলেটি ভাষায় কথা বলত। এজন্য তিনি সিলেটি ভাষাভাষী গাইড নিয়ে পাঠদান করাতেন। তিনি শুধু শিশুদের পড়াশোনাই নয়, তাদের টিকাদান, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও ঘরে মা-বাবা কীভাবে সন্তানদের দেখাশোনা করবেন-এসব বিষয়েও নিয়মিত পরামর্শ দিতেন।

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ ৪২ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তার একটাই আশা ছিল-একদিন সিলেটে এসে দেখবেন তার ছাত্রছাত্রীরা কোন জায়গা থেকে, কীভাবে তার দেশে গিয়েছিল। আজ সেই আশা পূরণ হয়েছে।’

শিশুদের মুখে শোনা স্বপ্নের সিলেট আজ নিজের চোখে দেখে তিনি সত্যিই মুগ্ধ ও অভিভূত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

এসএ/সিলেট