সীমান্তে চোরাচালান বন্ধে কঠোর...
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী...
ছবি সংগৃহীত
সিলেটে রয়েছে পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে ঢেলে সাজাতে নেওয়া হয়েছিল মাস্টারপ্ল্যান। যা বদলে দিতে পারতো পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি। তবে নিয়তির পরিহাস, সেই মাস্টারপ্ল্যান এক বছরেও আলোরমুখ দেখেনি।
গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর ‘সিলেট পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান কমিটি’র সদস্যরা বিভিন্ন পর্যটন এলাকা পরিদর্শন করেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আ.ন.ম বজলুর রশিদ এর নেতৃত্বে পরিবেশ বিজ্ঞান, স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা, পর্যটন ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞরা পরিদর্শনে ছিলেন।
পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ‘সিলেট পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান কমিটি’র সভাপতি ড. বজলুর রশিদ। তিনি জানিয়েছিলেন, সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন, পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। পরিকল্পনায় জলাভূমি, নদী, পাহাড় ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রকৃতি দুই হাত উজাড় করে সাজিয়েছে সিলেটকে। চায়ের দেশে জল-পাথর আর সবুজের মায়াজাল দেখতে প্রতিবছরই লাখো মানুষের ঢল নামে। এই বিপুল সম্ভাবনাকে পুঁিজ করে সিলেটের উল্লেখযোগ্য ৬টি পর্যটন কেন্দ্র নিয়ে সাজানো হয়েছিল এক মাস্টারপ্ল্যান, যা বদলে দিতে পারত পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি। তবে নিয়তির পরিহাস, সেই মাস্টারপ্ল্যান এখন কেবলই সরকারি ফাইলবন্দী ‘আশার বাণী’।
সিলেটের পর্যটন খাতের আধুনিকায়নে বিছনাকান্দি, জাফলং, পান্তুমাই, রাতারগুল, লালাখাল ও ভোলাগঞ্জকে কেন্দ্র করে নেওয়া মাস্টারপ্ল্যান এখনো শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ঘোষণার দীর্ঘদিন পরও প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে বাস্তবে কোনো অগ্রগতি বা দৃশ্যমান অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। এছাড়া ভাঙ্গাচোরা রাস্তা, যাতায়াতের অব্যবস্থাপনা ও মৌলিক সুবিধার অভাবে পর্যটকরা প্রতিনিয়িত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এই মাস্টারপ্ল্যান কেন আলোর মুখ দেখছেনা, কোথায় আটকে আছে, এর বাস্তবায়ন কতদূর- তা কেউ জানেন না।
সিলেটের উল্লেখযোগ্য এই ছয়টি ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। লোভাছড়া, শ্রীপুর, কাটাগাঙ্গ, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, মাধবকুন্ডের জলপ্রপাত ও হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র দেখতে প্রতিদিন পর্যটকরা আসেন।
গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর ‘সিলেট পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান কমিটি’র সদস্যরা বিভিন্ন পর্যটন এলাকা পরিদর্শন করেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আ.ন.ম বজলুর রশিদ কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ কমিটিতে পরিবেশ বিজ্ঞান, স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা, পর্যটন ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞরা ছিলেন।
কমিটির সদস্যরা সকালে সাদাপাথর ও বিকেলে জাফলং পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখেন। তারা পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সার্বিক অবস্থা, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রাসহ মাঠপর্যায়ে নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন।
মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, সিলেটের জাফলং, সাদাপাথর, বিছনাকান্দি, উৎমাছড়াসহ ছয়টি পর্যটনকেন্দ্রের পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যেমন উন্নত সড়ক যোগাযোগ, পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং তথ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার সুস্পষ্ট রূপরেখা রয়েছে।
ট্যুরিস্ট ক্লাব অফ সিলেট’র সভাপতি মাসুদ হোসাইন খান বলেন, সিলেটের চা বাগান, টিলা, নদী, পাহাড়ি ঝর্ণা, হাওড় ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনখাতকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পর্যটন স্পটের আকর্ষণ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে সহজে তুলে ধরার পাশাপাশি সেবার মানও বাড়ানো সম্ভব।
জাতিসংঘের পর্যটনবিষয়ক সংস্থা ইউএন ট্যুরিজমের মতে, পর্যটন খাত দ্রæত ডিজিটাল ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গন্তব্য নির্বাচন, ভ্রমণ পরিকল্পনা, বুকিং, গ্রাহকসেবা ও পর্যটনকেন্দ্র পরিচালনায় নতুন সুযোগ তৈরি করছে। পর্যটকের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা দেওয়ার পাশাপাশি এআই পর্যটন ব্যবসার দক্ষতাও বাড়াতে পারে।
এদিকে, সিলেট পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান কমিটি’র পরিদর্শন ও আশা জাগানিয়া বক্তব্যের পর সরকার বদল হয়েছে। বছরও ঘুরেছে। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কতদূর এগিয়েছে-এই প্রশ্নটাই সামনে এসেছে।
এসএ/সিলেট