জলবায়ু ও পরিবেশগত বুদ্ধিমত্তা অর্জনে শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে চারদিনব্যাপী অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মশালা সম্পন্ন

post-title

ছবি সংগৃহীত

তরুণ শিক্ষার্থীদের স্যাটেলাইট ডেটা বিশ্লেষণ, ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন এবং জলবায়ু ও পরিবেশগত তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি জিওগ্রাফি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি (মুগাস)-এর উদ্যোগে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে চারদিনব্যাপী অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মশালা ‘স্যাটেলাইট ডেটা অ্যানালিটিক্স উইথ পাওয়ার বিআই – ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইন্টেলিজেন্স’।

এই কর্মশালার প্রথম তিন দিনের কার্যক্রম অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয় এবং সমাপনী চতুর্থ দিনের অনুষ্ঠান সোমবার (৩ আগস্ট) মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির মিনি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনলাইন ও অফলাইনের সমন্বয়ে আয়োজিত এই কর্মশালায় সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, লিডিং ইউনিভার্সিটি, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আরটিএম আল-কবির টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট এবং মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কর্মশালাটিকে একটি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান-বিনিময় ও দক্ষতা উন্নয়নের অনন্য প্ল্যাটফর্মে পরিণত করে।

চারদিনব্যাপী এই অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মশালার প্রথম তিন দিনের কার্যক্রম অনলাইনে এবং সমাপনী চতুর্থ দিনের কার্যক্রম সরাসরি (অফলাইন) অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি সেশনকে ব্যবহারিক, অংশগ্রহণমূলক এবং দক্ষতাভিত্তিকভাবে সাজানো হয়, যাতে অংশগ্রহণকারীরা ধাপে ধাপে স্যাটেলাইট ডেটা অ্যানালিটিক্স ও পাওয়ার বিআইয়ের ওপর পূর্ণাঙ্গ ধারণা অর্জন করতে পারেন।

প্রথম দিন ছিল স্যাটেলাইট ডেটা, ভূ-স্থানিক তথ্য (জিওস্পেশিয়াল ডেটা) এবং জলবায়ু ও পরিবেশগত তথ্য বিশ্লেষণের মৌলিক ধারণা নিয়ে। এদিন অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন উৎস থেকে স্যাটেলাইট ডেটা সংগ্রহ, ডেটা আমদানি (ইমপোর্ট), ডেটা ক্লিনিং এবং বিশ্লেষণের উপযোগী করে প্রস্তুত করার পদ্ধতি হাতে-কলমে শেখানো হয়।

দ্বিতীয় দিন ছিল ডেটা মডেলিং এবং পাওয়ার বিআইয়ের উন্নত ফিচার নিয়ে। অংশগ্রহণকারীরা ডেটার মধ্যে সম্পর্ক (রিলেশনশিপ) তৈরি, ডেটা মডেলিং, ডেটা ট্রান্সফরমেশন এবং ডিএএক্স (ডেটা অ্যানালাইসিস এক্সপ্রেশনস) ব্যবহার করে বিভিন্ন গণনা ও বিশ্লেষণের কৌশল শিখেন। পাশাপাশি বাস্তব ডেটা ব্যবহার করে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানও অনুশীলন করেন।

তৃতীয় দিন ছিল ইন্টারঅ্যাকটিভ ড্যাশবোর্ড নির্মাণ এবং ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন নিয়ে। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন চার্ট, মানচিত্র, গ্রাফ, ফিল্টার, স্লাইসার এবং অন্যান্য ভিজ্যুয়াল টুল ব্যবহার করে জলবায়ু ও পরিবেশগত তথ্যের আকর্ষণীয় ও কার্যকর উপস্থাপনা তৈরি করেন। এদিন বাস্তব সমস্যাভিত্তিক ডেটাসেট ব্যবহার করে পূর্ণাঙ্গ ড্যাশবোর্ড তৈরির প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।

প্রথম তিন দিনের প্রতিটি অনলাইন সেশন শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি করে ব্যবহারিক টাস্ক নির্ধারণ করা হয়। এসব টাস্কের মাধ্যমে তারা শেখা বিষয়গুলো বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগ পান। ধারাবাহিকভাবে তিনটি টাস্ক সফলভাবে সম্পন্নকারী অংশগ্রহণকারীরাই সমাপনী অফলাইন পর্বে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেন। অনলাইন তিনটি সেশনেই গড়ে আশিরও বেশি শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন, যা কর্মশালাটির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও গুরুত্বের প্রতিফলন।

চতুর্থ ও সমাপনী দিনে, ৩ আগস্ট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির মিনি অডিটোরিয়ামে অফলাইন পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এদিন অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের প্রস্তুতকৃত প্রকল্প, ডেটা বিশ্লেষণ এবং পাওয়ার বিআই ড্যাশবোর্ড বিচারকমণ্ডলীর সামনে উপস্থাপন করেন। বিচারকমণ্ডলী উপস্থাপনার মান, ডেটা বিশ্লেষণের দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, ভিজ্যুয়ালাইজেশনের কার্যকারিতা এবং উপস্থাপনার কৌশল মূল্যায়ন করে সেরা অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচন করেন। দিনব্যাপী উপস্থাপনা, মূল্যায়ন, মতবিনিময়, পুরস্কার বিতরণ, সনদপত্র প্রদান এবং সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী এই সফল কর্মশালার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল অংশগ্রহণকারীদের স্যাটেলাইট ডেটা সংগ্রহ, ডেটা ক্লিনিং, ডেটা মডেলিং, পাওয়ার বিআই ব্যবহার করে ডেটা বিশ্লেষণ, ইন্টারঅ্যাকটিভ ড্যাশবোর্ড নির্মাণ এবং জলবায়ু ও পরিবেশগত তথ্যকে কার্যকরভাবে উপস্থাপনের ব্যবহারিক দক্ষতা প্রদান। প্রতিটি অনলাইন সেশনে গড়ে আশিরও বেশি শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিন দিনের প্রতিটি সেশনের শেষে ব্যবহারিক টাস্ক প্রদান করা হয় এবং ধারাবাহিকভাবে সব টাস্ক সফলভাবে সম্পন্নকারীরাই সমাপনী অফলাইন পর্বে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেন। ফলে কর্মশালাটি শুধু প্রশিক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের বাস্তব দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগও সৃষ্টি করেছে।

চার দিনের এই কর্মশালার প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুগাসের সহ-সভাপতি এবং মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ৫৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অভিষেক কালোয়ার। তিনি স্যাটেলাইট ডেটা বিশ্লেষণ, পাওয়ার বিআই, ডেটা রূপান্তর, ডেটা মডেলিং, ড্যাশবোর্ড নির্মাণ এবং জলবায়ু ও পরিবেশগত তথ্য বিশ্লেষণের বিভিন্ন বিষয় হাতে-কলমে উপস্থাপন করেন। বাস্তব উদাহরণ, ব্যবহারিক অনুশীলন এবং নিয়মিত টাস্কের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে তাঁর প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সমাপনী দিনে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের প্রস্তুতকৃত প্রকল্প ও ডেটা ড্যাশবোর্ড উপস্থাপন করেন। বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমান, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক আহমেদ ইশতিয়াকুর রহমান, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক মো. রুহুল আমিন, ডেটা সায়েন্স বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক নজরুল ইসলাম এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের প্রভাষক ইশরার নাজাহ চৌধুরী।

মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “বর্তমান বিশ্বে স্যাটেলাইট ডেটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং বিজনেস ইন্টেলিজেন্স একে অপরের পরিপূরক। গবেষণা, কৃষি, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নগর পরিকল্পনা এবং শিল্পখাতে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে।”

আহমেদ ইশতিয়াকুর রহমান বলেন, “বর্তমান সময়ে স্যাটেলাইট ডেটা ও তথ্য বিশ্লেষণ প্রযুক্তি বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের ব্যবহারিক কর্মশালা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যতের কর্মজীবনে তাদের আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।”

মো. রুহুল আমিন বলেন, “শুধু প্রোগ্রামিং জানলেই হবে না, ডেটা বুঝতে হবে, বিশ্লেষণ করতে হবে এবং সেই ডেটা থেকে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের প্রযুক্তি নেতৃত্ব দেবে।”

নজরুল ইসলাম বলেন, “ডেটাই আগামী বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। কিন্তু সেই ডেটাকে অর্থবহ তথ্যে রূপান্তর করতে হলে বিশ্লেষণী দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। পাওয়ার বিআই ও স্যাটেলাইট ডেটা অ্যানালিটিক্সের মতো দক্ষতা ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ইশরার নাজাহ চৌধুরী বলেন, “এই কর্মশালার সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো অংশগ্রহণকারীরা নিজেরাই কাজ করে বাস্তব সমস্যা সমাধানের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষণামুখী চিন্তাভাবনা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।”

প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী কাকলী রানী রায় কলি। প্রথম রানার-আপ হন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ৬১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাকসুরা রহমান জিম। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীকে সনদপত্র প্রদান করা হয় এবং সকলের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।

দিনব্যাপী উপস্থাপনা, মূল্যায়ন, মতবিনিময়, পুরস্কার বিতরণ, সনদপত্র প্রদান এবং সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে চারদিনব্যাপী এই সফল কর্মশালার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। সমাপনী অনুষ্ঠানের পুরো পর্বটি সঞ্চালনা করেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির আইন (এলএলবি) বিভাগের ৫৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সানজিদা জাহান চৌধুরী। তাঁর সাবলীল উপস্থাপনা অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত ও সুশৃঙ্খল করে তোলে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুগাসের দুই মেয়াদের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজার প্রিতম পাল। তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্যাটেলাইট ডেটা অ্যানালিটিক্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনের জন্য ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। মুগাস প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রমে উৎসাহ দিয়ে আসছে। ভবিষ্যতেও ভূ-তথ্য প্রযুক্তি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স এবং পরিবেশ বিষয়ক আরও আন্তর্জাতিক মানের কর্মশালা, সেমিনার ও গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম আয়োজন করা হবে।”

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান তানভীর এম. ও. রহমান চৌধুরী ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে তিনি একটি শুভেচ্ছাবার্তা প্রেরণ করেন। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার গুরুত্ব প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের জন্য এ ধরনের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুগাসের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষক, বিচারকমণ্ডলী এবং আয়োজকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

কর্মশালাটির ভাষা সহযোগী ও স্পন্সর ছিল টি টু কেয়ার। আয়োজকদের মতে, প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতার ফলে কর্মশালাটি আরও সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে মুগাসের পক্ষ থেকে টি টু কেয়ারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, এই চারদিনব্যাপী কর্মশালা শুধু একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নয়; বরং এটি ছিল বাস্তবমুখী শিক্ষা, নিয়মিত মূল্যায়ন, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান বিনিময় এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়নের একটি পূর্ণাঙ্গ প্ল্যাটফর্ম। সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একই ছাতার নিচে এনে স্যাটেলাইট ডেটা, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং পরিবেশগত বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে এই উদ্যোগ একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক, বিচারকমণ্ডলী, প্রশিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি জিওগ্রাফি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি (মুগাস) দেশের তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর, গবেষণামুখী এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

এসএ/সিলেট