৪৭ বছর পর আবার বাসিয়ায় খনন

বাবার পথেই হাঁটছেন তারেক রহমান

post-title

ছবি: সংগৃহীত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে নিজ হাতে কোদাল তুলে নিয়েছিলেন। তিনি অনুধাবন করেছিলেন এদেশের কৃষক বাঁচলে দেশের মানুষ বাঁচবে। তাই সবার আগে তিনি ফসল উৎপাদন করে কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। এদেশের মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে প্রথমে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন তিনি। বাবার পথেই হাঁটছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনিও খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়ে কৃষকের কাছে ছুটে চলেছেন। কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে সিলেটে ছুটে আসেন। শনিবার দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার মাসুক বাজার এলাকায় বাসিয়া নদী খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এর আগে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও বাসিয়া নদী খনন করেছিলেন। প্রায় ৪৭ বছর আগে স্থানীয় আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় বাসিয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করে জিয়াউর রহমান তার ‘খাল কাটা কর্মসূচীর’ অর্ন্তভ‚ক্ত করেছিলেন নদীটিকে। ১৯৭৯ সালে তিনি নিজ হাতে খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন। এরপর আর কেউ সুনজর দেননি বাসিয়ায়। ধীরে ধীরে বাসিয়া নদী পরিণত হয় মরাখালে।

এবার তার সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে বাসিয়া। স্থানীয়রা বলছেন, বাসিয়া যৌবন ফিরে পেলে অনেক অনাবাদী জমি আবাদের আওতায় আসবে। এছাড়া পানির অভাবে এখন যেসব জমিতে বছরে একবার ফসল উৎপাদন হচ্ছে সেসব জমিতে দুই থেকে তিনবার চাষাবাদ সম্ভব হবে। অধিক উৎপাদনের আওতায় আসবে ২০ হাজার হেক্টর জমি। আর সুফলভোগী হবেন হাজার হাজার কৃষক। শুষ্ক মৌসুমে সেচ দিয়ে শীতকালীন সবজির চাষাবাদের বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে।

স্থানীয়রা জানান, সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার এলাকায় সুরমা নদী থেকে উৎপত্তি বাসিয়া নদীর। এরপর দক্ষিণ সুরমা, ওসমানীনগর, বিশ্বনাথ ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের বরাক হাওর হয়ে মিলেছে কুশিয়ারা নদীতে। পাঁচ উপজেলার উপর দিয়ে প্রায় সাড়ে ৪০ কিলোমিটার বয়ে গিয়ে সুরমাকে কুশিয়ারায় যুক্ত করেছে বাসিয়া। শাখা নদী হলেও একসময় সিলেটের কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বাসিয়া নদীর। বর্ষা মৌসুমে নদীটি দিয়ে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য নৌকাবোঝাই করে সিলেট শহরে নিয়ে আসতেন। 

এ ছাড়া যাতায়াতের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতো নৌপথটি। শুষ্ক মৌসুমে নদী থেকে সেচ দিয়ে পানি তুলে দুই পাড়ের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হতো। বাসিয়া নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠেছে বিশ্বনাথ উপজেলা সদর। বিশ্বনাথের স্থানীয় অর্থনীতির বড় চালিকা শক্তি ছিল এই নদীটি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে দখল, দুষণ ও খননের অভাবে নাব্যতা হারিয়ে নদীটি পরিণত হয় মরাখালে। 

শনিবার দুপুরে যখন প্রধানমন্ত্রী মাসুক বাজার এলাকায় পৌছান তখন এলাকার লোকজন তাঁকে স্বাগত জানান। হেঁটে নামেন নদীর চরে। কুদাল হাতে মাটি কুড়ে তুলে দেন শ্রমিকদের মাথায়। পরে তিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বৈদশিক-প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, এই যে বাসিয়া নদীটা আছে, এখানে যে খালটা, সেটা ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। তারপরে আবার এই খালটা চলতে চলতে এখন বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে না? এই খালটা আমরা কাটতে চাই। কেন কাটতে চাই প্রশ্ন তুলে বলেন, খালটি কাটা হলে প্রায় ৮০ হাজার কৃষকের সরাসরি উপকার হবে। এছাড়া খালটা কাটলে আপনাদের যাদের জমি-জমা আছে, তাতে দুই পাশের জমি থেকে প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ফসল বেশি উৎপাদন হবে।


কাওছার আহমদ