হাকালুকিতে শ্রমিক সংকটে গোলায় ধান...
নাজমুল বারী সোহেল, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার):: বেশ কয়েকদিনের কালবৈশাখির ঝড়, বজ্রপাত, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিমজ্জিত এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি হাওরে বানের...
ছবি সংগৃহীত
মিজানুর রহমান আলম:: সবুজে ঘেরা আমাদের এই সোনার বাংলাদেশ। ষড়ঋতুর এই দেশে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিও বদলায় তার রূপ ও রঙ। বর্তমানে গ্রীষ্মের খরতাপ চললেও প্রকৃতি যেন আয়োজন করেছে এক রঙিন উৎসব। আর সেই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বেগুনি রঙের মনোমুগ্ধকর জারুল ফুল।
শ্রীমঙ্গলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রামীণ পথঘাট, ঝোপঝাড় ও রাস্তার ধারে এখন চোখে পড়ে জারুল ফুলের দৃষ্টিনন্দন সমারোহ। পথ চলতে চলতে হঠাৎ চোখে পড়া এই ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে থমকে দাঁড়ান পথচারীরা। থোকা থোকা বেগুনি ফুল যেন প্রকৃতির বুকে ছড়িয়ে দিয়েছে অপার সৌন্দর্য।
প্রচণ্ড গরমের মাঝেও জারুল গাছে ফুটে থাকা ফুলগুলো যেন এক টুকরো প্রশান্তির বার্তা বহন করে। সবুজ পাতার ফাঁকে গাঢ় বেগুনি রঙের ফুল প্রকৃতিকে করে তোলে আরও জীবন্ত ও আকর্ষণীয়। যেন প্রকৃতি নিজেই তার রঙিন তুলিতে এঁকেছে এক অপূর্ব দৃশ্যপট।
গ্রামবাংলার পরিচিত এই বৃক্ষ সাধারণত রাস্তার ধারে, জমির আইলে কিংবা অবহেলিত স্থানে নিজে থেকেই জন্মায়। বড় আকারের এই গাছের উচ্চতা প্রায় ৮০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এর বাকল মসৃণ ও ধূসর বর্ণের। শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে দণ্ডাকারে অসংখ্য ফুল ফোটে, যা ধীরে ধীরে পুরো গাছকে ঢেকে ফেলে বেগুনি রঙে।
জারুল ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Lagerstroemia speciosa এবং ইংরেজিতে এটি “Queen Crape Myrtle” নামে পরিচিত। ফুলের পাপড়ি সাধারণত ছয়টি এবং মাঝখানে থাকে হলুদ রঙের পরাগ। ফুল ঝরে গেলে গাছে গোলাকার বীজ তৈরি হয়, যা দিয়ে এর বংশবিস্তার ঘটে। বাংলাদেশে সাধারণত নীলাভ ও গোলাপি আভাযুক্ত জারুল বেশি দেখা যায়।
উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, জারুলের আদি নিবাস শ্রীলঙ্কা হলেও এটি ভারতীয় উপমহাদেশজুড়ে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে এই গাছের দেখা মেলে। শুধু সৌন্দর্যেই নয়, জারুল গাছের রয়েছে নানা ঔষধি গুণও। জ্বর, কাশি, অনিদ্রা ও অজীর্ণতায় এর ব্যবহার প্রচলিত। এছাড়া বাতের ব্যথা উপশমে এর পাতা ব্যবহৃত হয় এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও এর বীজ, ছাল ও পাতার কার্যকারিতা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।
গ্রীষ্মের শুরুতে জারুলের এই বর্ণিল উপস্থিতি প্রকৃতিতে এনে দেয় ভিন্ন মাত্রা। খরতাপের মধ্যেও এর বেগুনি আভা ছড়িয়ে দেয় প্রশান্তি, যা মুগ্ধ করে রাখে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষকে। সত্যিই, পথের ধারে ফুটে থাকা জারুল ফুল গ্রীষ্মের এক অনন্য সৌন্দর্যের প্রতীক।
এসএ/সিলেট