সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের...
ওমরাহ হজ শেষে সৌদি আরবে বাসায় ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের একই পরিবারের ৪ জনসহ ৫ জন নিহত হয়েছে।নিহতরা হলেন- সৌদি আরব প্রবাসী মিজানুর রহমান...
অসাধু দালাল ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে চলছে জালিয়াতি; প্রশাসনের নীরবতায় বাড়ছে উদ্বেগ
সংগৃহীত
দেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি জন্ম নিবন্ধন সংশোধনকে কেন্দ্র করে এক অস্বচ্ছ ও অবৈধ সিন্ডিকেটের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নাগরিকদের জন্ম নিবন্ধনে বয়স বাড়ানো বা কমানোর কাজ করে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অর্ধেক বয়স পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর জালিয়াতির ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে।
কীভাবে চলছে এই সিন্ডিকেট?
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু অসাধু দালাল সরাসরি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পরিশোধের পর জন্ম নিবন্ধনের তথ্য অবৈধভাবে পরিবর্তন করা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের প্রয়োজন ও দুর্বলতাকে পুঁজি করে এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বলে অভিযোগ।
কেন বাড়ছে বয়স পরিবর্তনের প্রবণতা?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চাকরি, প্রবাসে যাওয়া, বিয়ে কিংবা অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে অনেকেই বয়স পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। এই সুযোগেই দালালচক্র গড়ে তুলেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এতে জড়িত কিছু অসাধু কর্মকর্তা প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।
আইনি অবস্থান কী?
জন্ম নিবন্ধন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি। আইন অনুযায়ী, মিথ্যা তথ্য প্রদান বা সরকারি নথি জালিয়াতি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে বাস্তবে অভিযোগ প্রমাণ ও শাস্তির নজির খুবই কম—যা সিন্ডিকেটকে আরও সাহসী করে তুলছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন, ডিজিটাল যাচাইব্যবস্থা জোরদার এবং দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও সচেতন হয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় না জড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবি। অনিয়মের শিকার হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা হটলাইনে অভিযোগ জানাতে উৎসাহিত করছেন সচেতন নাগরিকরা।
জন্ম নিবন্ধনের মতো সংবেদনশীল নথিতে এমন অনিয়ম চলতে থাকলে তা কেবল ব্যক্তিগত নয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
টিএ/ছাতক