সিলেটের উন্নয়নের ১১ দফা অঙ্গীকার ও রূপরেখা

নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করলেন খন্দকার মুক্তাদির

post-title

ছবি সংগৃহীত


মহানগর ও সিলেট সদর উপজেলার উন্নয়নের লক্ষ্যে ১১ দফা অঙ্গীকার ও ভবিষ্যতে তা বাস্তবায়নের রূপরেখাসহ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সিলেট-১ (সদর ও মহানগর আসনে) বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।  বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে কাজিটুলাস্থ তার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে এ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।

‘কর্মসংস্থান, মানবিক উন্নয়ন ও টেকসই নগরায়নের রোডম্যাপ’ শিরোনামের এই নির্বাচনী ইশতেহারে আগামীতে নির্বাচিত হলে সিলেট-১ তথা সিলেট ও মহানগরীকে ঘিরে নিজের কর্মপরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ছাড়াও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-ক্ষুদ্র ঋণ ও কুঠির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মিজানুর রহমান চৌধুরী, হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, বদরুজ্জামান সেলিম, যুক্তরাজ্যস্থ বৃটিশ-বাংলাদেশী ক্যাটারার্স এসোনিয়েশনের চেয়ারম্যান পাশা খন্দকার, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আশিক উদ্দিন, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ  সিলেট’র আহবায়ক ডা. শামীমুর রহমান, শাবিপ্রবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শাহ মো. আতিকুল হক প্রমুখ।

ইশতেহার ঘোষণা কালে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির তার দীর্ঘ বক্তব্য তিনি সিলেট-১ আসনের সংসসদ সদস্য নির্বাচিত হলে। সিলেটের সার্বিক ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন খাতের দেশের ও প্রবাসের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে ‘আকাঙ্খার সিলেট’ নামে একটি উচ্চ পর্যায়ের উন্নয়ন পরামর্শক কমিটি গঠন করার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, এই কমিটির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ ও পরিবহন, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ খাতের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন অগ্রাধিকার চিহ্নিত করা হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন আমার প্রথম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে শ্রমঘন শিল্প স্থাপনের জন্য সরকারি নীতি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরী, সিলেটের আইটি ও ইনোভেশন হাব তৈরীর লক্ষ্যে তথ্য প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক অবকাঠামো নির্বাণ করা হবে। তথ্য প্রযুক্তিখাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিলেটের তরুণ-তরুণীদের জন্য ওয়েব ডিজাইন, প্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডেটা এন্ট্রি সহ অন্যান্য আইটি সংশ্লিষ্ট কোর্সে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিদেশে মার্কেটিং কাজের জন্য উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেয়া হবে এবং তরুণ ফ্রীল্যান্সারদের সরকারী খাতের সাথে যৌথ কর্ম ক্ষ্রেত সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, তিনি নির্বাচিত হলে সিলেটে ‘ওয়ান স্টপ ক্যারিয়া এন্ড জব সেন্টার’ চালু করা হবে, যেখানে থাকবে প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ও সম্ভাব্য চাকুরির সংযোগ। এআই লার্নিং, আইটি, ফ্রিল্যান্সিং ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে তরুণদের ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করা হবে।
তিনি বলেন, সিলেটে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ফ্ল্যাগশিপ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডের উদ্যোগ নেয়া হবে। উদ্যোক্তাদের উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে প্রকল্প এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করা হবে। এতে উৎপাদন খরচ কমবে এবং সময়মতো পণ্য ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ, স্টার্টআপ ফান্ড এবং ব্যবসা নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে তিনি নির্বাচিত হলে বিদেশে বসবাসরত সফল প্রবাসী ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজরি বোর্ড’ গঠন করা হবে জানান। ডেন্টাল ট্যুরিজম ও উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণে সিলেটকে একটি আস্তর্জাতিক ডেন্টাল ট্যুরিজম হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রবাসী এবং বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্বমানের ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, কসমেটিক ডেন্টিস্ট্রি এবং আধুনিক সার্জারি সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এই লক্ষ্যে বিশেষায়িত ডেন্টাল জোন তৈরি এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্লিনিক স্থাপনে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা হবে, যা একই সাথে পর্যটন ও স্বাস্থ্য খাতকে সমৃদ্ধ করবে।

কৃষি আধুনিকায়নের লক্ষ্যে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আগামী দিনে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও শুকনো মৌসুমে সেচের পানির ব্যবস্থা করে সিলেটের কৃষি জমিতে আরেকটি বাড়তি ফসল যুক্ত করা হবে, যার পরিমান কয়েক লক্ষ টন। এই প্রক্রিয়াটি আমাদেরকে কয়েক দশক আগেই হাতে কলমে  দেখিয়ে গেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এছাড়া, তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক কৃষিতে সম্পৃক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস, প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগ সহায়তা প্রদান করা হবে। 

সিলেট থেকে সরাসরি বিদেশে পণ্য রপ্তানীকে উৎসাহিত করা ও এ রপ্তানী প্রক্রিয়া সহজিকরণ করতে সরকারি সার্টিফিকেশন এবং প্যাকেজিং সংক্রান্ত অসুবিধা ও জটিলতা দূর করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।  এছাড়া, আগ্রহীদেরকে আধুনিক মৎস্য চাষের প্রশিক্ষণ এবং উপকরণ সহায়তার মাধ্যমে একুয়াফনিক্স প্রযুক্তির (মৎস্য-উদ্ভিদ সমন্বিত চাষ পদ্ধতি) মৎস্য চাষে উদ্বুদ্ধকরণ করা হবে।
তিনি বলেন, কৃষি পণ্যের অপচয় রোধ এবং কৃষকের নায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সিলেটে আধুনিক এগ্রো-প্রসেসিং ইউনিট এবং কোল্ড স্টোরেজ (হিমাগার) স্থাপনে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সিলেটের সরবরাহের পথ সুগম করা হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটের স্থাপত্য ও নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে সিলেটের মনিপুরী ও খাসিয়া খাসি সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী অবকাঠামো ও স্থাপত্য পুণঃনির্মাণ ও সংরক্ষণ করা হবে। মরমী ও লোকজ সঙ্গীত ঐতিহ্যের প্রসারের লক্ষ্যে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম, দুর্বিন শাহ ও রাধারমণ দত্তসহ সিলেটের সকল বাউল সাধ্যকদের যথাযথ সম্মান ও বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি প্রদানের জন্য সাংস্কৃতিক সপ্তাহ এবং লোকসংগীত উৎসবের আয়োজন করা হবে, যা সিলেটে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রস্থল হবে। সিলেটে নারীবান্ধব পর্যটন ও ঐতিহ্যবাহী স্ট্রিটফুড জোন গড়ে তোলা হবে বলে জানান খন্দকার আব্দু মুক্তাদির। এছাড়া, নাটক, গীতিনাটক, পথনাট্য ও সংস্কৃতি চর্চার প্রতিটি ক্ষেত্র মুক্ত ও বাঁধাহীনভাবে চর্চার ক্ষেত্র নিশ্চিত করা হবে বলে জানা তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চা শিল্প ও চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চা বাগানগুলোর জনসংখ্যা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়া, সিলেটের চা শিল্পের উন্নয়নেও কার্যকর ও যুগোপযুগী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সিলেট মহানগরীকে একটি নারীবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নারীদের জন্য মানসম্মত পাবলিক টয়লেট তৈরী করা হবে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছেলে-মেয়ে, বিশেষ করে ছেলেদের জন্য জেন্ডার বেসড ভায়োলেন্স ও যৌন হয়রানি বিরুদ্ধে শিক্ষামূলক ওরিয়েন্টেশনেরউদ্যোগ নেয়া হবে। একইসাথে এই সময়ে মেয়েদের জন্য বিদ্যালয়গুলোতে আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণে উৎসাহ ও সহায়তা প্রদান করা হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নগর ব্যবস্থাপনা উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকায় নারীদের সার্বক্ষণিক নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে শুধুমাত্র নারী পরিচালিত নারীদের বাস চালু করা হবে, যার সফলতা সাপেক্ষে সিলেটেও এই উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা হবে। চাকরিজীবী মা-দের সুবিধার্তে ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া, নারী উদ্যোক্তাদের বিদেশে পণ্য বিপননে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও তহবল সহায়তা প্রদান করা হবে। নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা প্রসারের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে  প্রদর্শনী ও হলিডে মার্কেটের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা প্রসারের লক্ষ্যে সহজ শর্তে অল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।

স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকসমূহকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।  হাসপাতালসমূহের সেবাদানে অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দুর্নীতি দূরীকরণ ও জন আস্থা প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেয়া হবে। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে সক্ষমতা ও মানে উন্নীত করা হবে। ২০ শয্যা বিশিষ্ট শাহপরান হাসপাতালকে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে মানসম্মত চিকিৎসা সেবাপ্রদানের উপযোগী করা হবে। ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালকে পুনরায় পূর্ণক্ষমতায় চালু করা হবে । সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি জেনারেল হাসপাতাল দ্রুত প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে সিলেটে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে একটি সুসংগঠিত মেকানিজম প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং শ্রেণীকক্ষের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে নগর উন্নয়ন, পরিবেশ ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সিলেট মহানগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সুরমা ও চেঙ্গের খাল খনন এবং সিলেটের প্রাকৃতিক খালগুলো পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।  নগরজুড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ক্লাবসমূহের মাধ্যমে তরুণ যুবকদের সংগঠিত করতে এবং প্রবীণদের উপদেষ্টা হিসেবে পরামর্শক ভূমিকায় সম্পৃক্ত করতে উৎসাহ প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক বন্ধন শক্তিশালী হবে এবং মাদকাসক্তি, অনলাইন জুয়া (তীর খেলা), কিশোর গ্যাং ও অন্যান্য ক্ষতিকর কর্মকান্ড নিরোধ করে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নাগরিক সেবা সহজীকরণের জন্য নাগরিকদের সাথে পরামর্শক্রমে উদ্যোগ নেয়া হবে (যেমন, হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ প্রক্রিয়া, ট্রেড লাইসেন্স আবেদনের প্রক্রিয়া, ওসমানী মেডিকেল এর  কেবিন ও ওষুধ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া ইত্যাদি) সেবাদান সহজীকরণ ও স্বচ্ছ করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে।

সিলেট-১ নির্বাচনী এলাকার এর প্রত্যেক ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে এবং বর্ধিত ওয়ার্ডসমূহে স্থানপ্রাপ্তি সাপেক্ষে খেলার মাঠ এবং অন্য ওয়ার্ডগুলোতে জোনভিত্তিক ইনডোর স্পোর্টস ফেসিলিটি (যেখানে মিনি-ফুটবল, ভলিবল খেলা যাবে ইত্যাদি) স্থাপন করার আশ্বাস দেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে স্বচ্ছ ও জন-আস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিটি প্রকল্পের জন্য সংশ্লিষ্ট স্থানীয় বিশিষ্ট গন্যমান্য ব্যক্তি ও পেশাজীবীদের সমন্নয়ে পর্যবেক্ষক দল তৈরী করা হবে।

সিলেটের সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগের উন্নয়নের তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সিলেট- ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ আধুনিকায়নের মাধ্যমে দ্রুত ও নিরাপদ যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে হবে। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করা হবে। 

সিলেট নগরীর যানজট নিরসনে পরিকল্পিত পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ও মাল্টি-লেভেল পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি যানজটমুক্ত ও গতিশীল নগরী প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান খন্দকার মুক্তাদির। চলমান বাইপাস প্রকল্পসমূহ দ্রুত সম্পন্ন করে ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে নগরের ভেতরের চাপ কমানো হবে বলে জানান তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট এমসি কলেজ, সরকারি কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও অন্যান্য কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়মুখী যাতায়াতের সুবিধার্থে শাটাল সার্ভিস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সিলেট নগরীতে মনোরেল চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই ও বাস্তবায়নের রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হবে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া এবং মাদকের বিস্তার রোধে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে, যা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে তদারকি করবে।মাদকাসক্ত ও বিপথগামী তরুণদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে আধুনিক পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন এবং প্রতিটি এলাকায় খেলাধুলাকে জোরদার করা হবে।

সিলেটের সকল মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের চাকুরীল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের নিয়োগ ও নিয়োগ অবসানের প্রক্রিয়া নীতিমালার আওতায় আনয়নের জন্য জাতীয় পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে এবং ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের হাদীয়া বৃদ্ধির বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

এসএ/সিলেট