নির্বাচনে প্রার্থীদের...
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার শেষ হয়েছে। ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার সঙ্গে সঙ্গে প্রচার-প্রচারণার সব...
বিভাগীয় ইমাম সম্মেলন
ছবি সংগৃহীত
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেছেন, সমাজে ইমামদের মর্যাদা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। ন্যায়ভিত্তিক, সমতাপূর্ণ ও মানবিক মর্যাদার সমাজ গঠনে ইমামদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) নগরীর বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, গত ১৬ বছর বাংলাদেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। এক ব্যক্তির ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের সকল সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়েছিল। এ ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা থেকে মুক্তি এবং অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরে আসতে আমাদের সন্তানেরা রক্ত দিয়েছে। তাই রক্তের অক্ষরে লেখা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে অতীতে দেশে সফল ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু আমৃত্যু ক্ষমতায় টিকে থাকার উদ্দেশ্যে ফ্যাসিবাদী সরকার সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। সেই সরকারই নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিতো এবং সংবিধান কাটাছেঁড়া করতো।
গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের আয়োজন করছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেই মত প্রকাশের অধিকার সমুন্নত থাকবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মনির হায়দার বলেন, এক সময় দাড়ি, টুপি ও পাঞ্জাবি পরিহিত আলেমদের দেখলেই জঙ্গি আখ্যা দেওয়া হতো। তারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে ভয় পেতেন। একসঙ্গে চার-পাঁচজন মিলে হাঁটতে পারতেন না, চায়ের দোকানে বসতে পারতেন না। এমনকি রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে নির্মিত চলচ্চিত্রেও দাড়ি-টুপি পরিহিতদের স্বাধীনতাবিরোধী ও জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের সেই নির্যাতন ও নিপীড়ন থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমাদের সন্তানরাই মুক্তি এনে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে। এই ফ্যাসিবাদ চিরতরে নির্মূল করতে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করা আমাদের সকলের ঈমানি ও নৈতিক দায়িত্ব।
বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. সৈয়দ শাহ এমরান এবং সিলেট জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব। সভায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইমামবৃন্দ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসএ/সিলেট