সুনামগঞ্জে নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে...
সুনামগঞ্জ জেলার নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন লালমনিরহাটের কৃতিসন্তান আবু বসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন, পিপিএম-সেবা। শনিবার (২৯ নভেম্বর)...
ঠিকাদারদের সম্মিলিত অভিযোগ ও দীর্ঘদিনের বিতর্কের পর পদায়ন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে
ছবি সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) ঘুষ, অনিয়ম ও হয়রানির নানা অভিযোগের জেরে উপজেলা প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। গত রবিবার (২৩ নভেম্বর) এলজিইডির প্রধান কার্যালয় থেকে জারি করা আদেশে তাঁকে ছাতক থেকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় পদায়ন করা হয়। বদলি আদেশকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ঠিকাদার এবং সচেতন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাতকের ১৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একযোগে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়- বিল ছাড়ের আগে নিয়মিত ২ শতাংশ ঘুষ দাবি, বিভিন্ন প্রকল্প—জিপিএস স্কুল, এসডিআইআর আইআইপি–৩সহ—বিল আটকে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ, কাজ পরিদর্শনের নামে অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া দাবি,
এবং অপছন্দের ঠিকাদারদের হয়রানি—এসব ছিল তাঁর নিয়মিত আচরণ।
অভিযোগের পর প্রায় চার মাস কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
ঠিকাদারদের দাবি, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ১০ কোটি টাকার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক কাজ নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের দেওয়ার শর্তে অভিযোগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার চেষ্টা হয়েছিল। তবে ঠিকাদারদের ধারাবাহিক প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ বদলির সিদ্ধান্ত নেয়।
সূত্রমতে, সিলেট বিভাগের আরও কয়েকটি উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ, স্বেচ্ছাচারিতা ও ঠিকাদার হয়রানির অভিযোগ ওঠে। ২০২১ সালের এক তদন্তেও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়—যা সে সময় জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।
ছাতক এলজিইডি অফিসে পিয়ন থেকে অফিস সহকারী পদে উন্নীত মো. রিয়াজ মিয়াকে কেন্দ্র করেও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় তাঁর বিরুদ্ধে “দুর্নীতির বটবৃক্ষ” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে তিনি নিয়ম–বহির্ভূতভাবে দশ বছর একই দপ্তরে বহাল, প্রকল্প অনুমোদন, বিল পাস, ফাইল নড়াচড়া—সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ আদায়, সেবা প্রার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার,
এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের পক্ষে নথি সরবরাহ- এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
এলাকাবাসীর বক্তব্য, তিনি একটি অসাধু সিন্ডিকেটের অংশ হিসেবে দপ্তরের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে রেখেছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামের বদলির বিষয়টি এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী (প্রশাসন) মো. শফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
টিএ/ছাতক