কোম্পানীগঞ্জের অবৈধ বালুপাথর...
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদী ও শাহ আরেফিন টিলা থেকে অবৈধ বালুপাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালত...
সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
ছবি সংগৃহীত
নগরের ধোপাদীঘিরপারে পৈত্রিক মালিকানাধীন জমিকে অর্পিত সম্পত্তি দেখিয়ে জবরদখলের চেষ্টা চালাচ্ছে একটি চক্র- এমন অভিযোগ করেছেন ওই এলাকার বাসিন্দা লনি লাল বৈদ্য। পৈত্রিক ভিটা উদ্ধারে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
লনি লাল বৈদ্য ও তার পরিবারের সদস্যরা বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ধোপাদীঘির পারে অনাবিল আবাসিক এলাকার এই জমি তাঁর পৈত্রিক মালিকানাধীন। কিন্তু অন্যায়ভাবে তা অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয় এবং পরে একটি অসাধু চক্র ভুয়া লীজপত্র ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে লনি লাল বৈদ্য জানান, তিনি ও তাঁর শরীকানগণ রনজিৎ বৈদ্য, বিশ্বজিৎ বৈদ্য, মানিক বৈদ্য, মলিন বৈদ্য ও বাদল বৈদ্য বংশানুক্রমে এসএ খতিয়ান নম্বর ১৫৭৩, দাগ নম্বর ৭৪১৩/৭৫৮৪, মোট ০.০৭৫০ একর জমির বৈধ মালিক ও দখলদার। পূর্বপুরুষদের ভোগদখল এবং সেটেলমেন্ট জরিপেও জমিটি তাঁদের নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল।
২০১২ সালের ৫ এপ্রিল গেজেটে ভুলবশত এই পৈতৃক ভূমি অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এ ঘটনায় তাঁরা অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ ট্রাইব্যুনাল, সিলেট-এ মামলা (নং ২৫৮/২০১২) দায়ের করেন। শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ২৫ নভেম্বর আদালত তাঁদের পক্ষে রায় দেন এবং ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি ডিক্রি জারি করে জমিটি অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্ত করার নির্দেশ দেন। রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলও (নং ৪৬/২০১৫) নামঞ্জুর হয়। আদালতের রায় অনুযায়ী জমিটির ১৭১৯৭ নম্বর খতিয়ান তাঁদের নামে বহাল রয়েছে এবং তা বর্তমানে কার্যকর।
লিখিত বক্তব্যে লনি লাল বৈদ্য জানান, তাঁদের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৮ মাস ধরে ফয়জুল হক (ফজলু)-এর (একশনা) লীজ কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। একটি অসাধু চক্র ফয়জুল হক (ফজলু) নামীয় ব্যক্তির মাধ্যমে দাবি করছে যে তিনি জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে লীজ নিয়ে “ফয়েজ ইঞ্জিনিয়ারিং” নামে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি এসএ/ডিপি/২২/৭৯-৮০/২০০৮/৫৮, তারিখ: ০৮/০৪/২০০৮ ইং স্মারকের একটি কাগজ দেখিয়ে নিজেদেরকে লীজ গ্রহীতা দাবি করছেন। কিন্তু এই কথিত লীজটি আসলে মৌজা মিউনিসিপ্যালিটির ১৭০৬ নম্বর খতিয়ান ও ৭৫৮৪ নম্বর দাগের ০.০৫ একর জমির যা বৈদ্য পরিবারে তফসিলভুক্ত পৈতৃক জমির সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তিনি জানান “ফয়জুল হক (ফজলু) বিভ্রান্তিকরভাবে আমাদের জমিকে তাঁর লীজকৃত জমি বলে দাবি করছে। শুধু তাই নয়, আমাদের ভূমি দখলের উদ্দেশ্যে আমাদেরকে প্রাণে হত্যার হুমকিও দিচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনে লনি লাল বৈদ্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানান ফয়জুল হক (ফজলু) ও ফয়েজ ইঞ্জিনিয়ারিং এর নামে কথিত ভুয়া ও প্রতারণামূলক লীজ (স্মারক নং: এসএ/ভিপি/২২/৭৯-৮০/২০০৮/৫৮) অবিলম্বে বাতিল ঘোষণা করতে হবে। তাঁদের তফসিলভুক্ত পৈতৃক সম্পত্তি ভবিষ্যতে যেন কারো নিকট লীজ বা বরাদ্দ প্রদান না করা হয় এ বিষয়ে স্থায়ী প্রশাসনিক আদেশ দেওয়ার আহ্বান জানান।
লনি লাল বৈদ্য বলেন, “আইন, আদালতের রায়, নামজারী রেকর্ড এবং দীর্ঘদিনের ভোগদখল সবই আমাদের মালিকানা প্রমাণ করে। ফলে তিনি এ জমির মালিকানা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
এসএ/সিলেট