সড়ক দুর্ঘটনা : একমাত্র উপার্জনক্ষম প্রীতমকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ পরিবার

post-title

ছবি সংগৃহীত

শুক্রবার সকালটি ছিল অন্য দিনের মতোই। রাজধানীর পথে যাত্রা করেছিলেন ২২ বছর বয়সী সপ্তম রায় প্রীতম। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল জীবনের শেষ সফর। সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান তিনি। আর তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে যেন ভেঙে পড়েছে একটি পুরো পরিবার।

সিলেটের ওসমানীনগরের ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় নিহতদের একজন সপ্তম রায় প্রীতম (২২)। পরিবারের মধ্যে তিনি ছিলেন বৃদ্ধ মা ও বোনের একমাত্র অবলম্বন। ছোটবেলায় একমাত্র ভাইকে হারানোর পর সংসারের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া এই তরুণের মৃত্যুতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। নিহত সপ্তম রায় প্রীতম (২২)। সে মহানগরীর সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-২৫৬৩) একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার (ঢাকা মেট্রো-ব ১২-৫৯৮৭) কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও দুজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনায় মোট ৯ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এবং বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন আরও ১৩ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

জানা যায়, রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে বের হওয়া এই যাত্রাই যে প্রীতমের জীবনের শেষ যাত্রা হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধ মা ও বোনের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। নিজের স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষাকে পেছনে ফেলে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টাই ছিল তার জীবনের প্রধান লক্ষ্য।

প্রীতমের খালাতো বোনের জামাই কাজল ভৌমিক বলেন, ‘প্রীয়মই ছিল পরিবারের একমাত্র ভরসা। তার উপার্জনের ওপর নির্ভর করেই চলত বৃদ্ধ মা ও বোনের সংসার। অনেক অভাব-অনটনের মধ্যেও সে কখনো দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায়নি। ছোটবেলায় পানিতে ডুবে তার একমাত্র ভাই মারা যাওয়ার পর থেকেই সংসারের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল। আজ সেই প্রীয়মও আমাদের ছেড়ে চলে গেল।’

প্রতিবেশী নরেন ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘নিহতদের তালিকায় সপ্তমের নাম দেখে হৃদয় ভেঙে গেছে। ছোটবেলা থেকে তাকে কোলে-পিঠে করে বড় হতে দেখেছি। তারা আমাদের পাশের বাসার ভাড়াটিয়া ছিল। এর আগে পানিতে ডুবে তার একমাত্র ভাই মারা গিয়েছিল। এখন এই শোক তার বৃদ্ধ মা ও বোন কীভাবে সইবেন, সেটাই ভাবছি। খবরটি শোনার পর থেকেই খুব খারাপ লাগছে।’

সোবহানীঘাট এলাকার স্থানীয়রা জানান, পরিবারের জন্য নিরলস পরিশ্রম করা প্রীতমের অকাল মৃত্যু স্বজনদের নয়, পুরো এলাকার মানুষের মনকেও ভারাক্রান্ত করে তুলেছে। একের পর এক পারিবারিক বিপর্যয়ের পর এবার পরিবারের শেষ অবলম্বনকেও হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তার মা ও বোন।

এসএ/সিলেট