কানাইঘাটে বন্ধুর স্ক্রুড্রাইভারের আঘাতে কিশোরের মৃত্যু

post-title

নিহত আহাদ আহমদ ও ঘাতক সায়েম আহমদ (বা দিক থেকে)

কানাইঘাটে সহপাটির স্ক্রুড্রাইভারের আঘাতে নির্মম ভাবে মৃত্যু হয়েছে আহাদ আহমদ নামে ১৬ বছরের এক কিশোরের। রবিবার (২৮জুন) রাত ৮টায় কানাইঘাট পৌরশহরের উপজেলা রোডস্থ তাজু নামের একব্যাক্তির ওয়ার্কসপে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আহাদ আহমদ ঐ ওর্য়াকসপে কর্মচারীর কাজ করত।

সে কানাইঘাট পৌরসভার দলইমাটি গ্রামের রিক্সাচালক দরিদ্র সালেহ আহমদের পুত্র। জানা যায় তার বন্ধু নামে পরিচিত সহপাটি পৌরসভার রায়গড় গ্রামের এনাম উদ্দিন ভান্ডারীর পুত্র সায়েম আহমদ (২১) রবিবার ৮টার দিকে ওর্য়াকসপে যায় এবং আহাদের সাথে কথাবার্তার একপর্যায়ে তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়ে । একপর্যায়ে সায়েম আহমদ দোকানে থাকা একটি স্ক্রুড্রাইভার দিয়ে আহাদের মাথায় আঘাত করলে, সে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুঠিয়ে পড়ে।

আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহত অবস্থায় আহাদকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপালে প্রেরণ করেন চিকিৎসকরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৯জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আহাদের মৃত্যু হয়। সহপাটির হাতে আহাদের মর্মান্তিক মৃত্যুও ঘটনায় ঘাতক সায়েমকে গ্রেফতার করতে থানা পুলিশেরে একাধিক দল মাঠে অভিযান চালাচ্ছে।

এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহাদের মৃত্যুর খবর শুনার পর তার লাশের ময়না তদন্তের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তাৎক্ষণিক ভাবে পুলিশকে জানানো হয়নি। তারপরও ঘাতক সায়েম আহমদকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তবে আহাদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় মামলা দায়ের করা হয়নি।

এদিকে পারিবারিক সূত্রে জানা যায় আহাদ আহমদের মা আফতারুন বেগম তালাকপ্রাপ্ত। মা সহ আহাদ পৌরসভার মহেষপুর গ্রামে একটি টিনসেটের ভাড়া বাসায় নানার সাথে তারা বসবাস করত। প্রায় বছরখানিক পূর্বে তার মা আফতারুন বেগম মারা যান। আহাদ আহমদের দুই বোন রয়েছে। বড় বোনের বিয়ে হলেও অবুঝ এক বোনকে নিয়ে আহাদ আহমদ নানা-নানির সাথে বসবাস করত। আহাদের বাবা থাকলেও কখনো সন্তানদের খোজ খবর নেয়নি বলে তার নানা-নানী জানিয়েছেন।

এসএ/সিলেট