দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি বিষয়ে কাপের সেমিনার

টিটিসি-সহ কানাইঘাটে পূর্ণাঙ্গ কারিগরি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাবি

post-title

ছবি সংগৃহীত



কানাইঘাট উপজেলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কোনো বিকল্প নেই। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কানাইঘাট উন্নয়ন পরিষদ (কাপ) এর উদ্যোগে “দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কারিগরি শিক্ষা: কানাইঘাটের বাস্তবতা ও সম্ভাবনা” শীর্ষক একটি সেমিনার শনিবার (১৬ মে) কানাইঘাট উপজেলার একটি হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বিস্তারিত আলোচনা, কানাইঘাটের বর্তমান চিত্র ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনার পর কানাইঘাটে কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন ও সমস্যার সমাধানে সর্বসম্মতিক্রমে পাঁচ দফা প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন। এই প্রস্তাবে বলা হয়, কানাইঘাট উপজেলায় বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ বা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নেই। টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি)ও নেই। যুব সমাজকে দক্ষ করতে অনতিবিলম্বে একটি সরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও টিটিসি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানানো হয়।
কাপের চেয়ারম্যান কবি সরওয়ার ফারকীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি রিয়াজ উদ্দিনের পরিচালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক ও পিএইচডি গবেষক এহসানুল হক জসীম। সমাপনী বক্তব্য রাখেন কাপের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ।
শিক্ষাবিদ, কারিগরি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট মহানগরের কানাইঘাট সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: জাকারিয়া, জমশেদ আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: জালাল উদ্দিন, সুরমা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সাজিদ মিয়া, কানাইঘাট প্রবাসী সমাজ কল্যাণ পরিষদ ইউএই এর সভাপতি জুনেইদ আহমদ, কানাইঘাট মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সাখাওয়াত হোসেন, কানাইঘাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আতিকুর রহমান, হারিছ চৌধুরী টেকনিক্যাল স্কুলের মোঃ আব্দুল্লাহ, কাপের ভাইস চেয়ারম্যান মীম সালমান ও আব্দুল কাদির ফারূক। 

অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান ইকবাল, কাপের কার্যনির্বাহী সদস্য আবুল মনসুর সাজু চৌধুরী, মো. ওমর ফারুক ও একেএম ওলিউল্লাহ, পর্যটন উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক বুরহানুদ্দীন ইউসুফ, নৃতত্ব বিষয়ক সম্পাদক পিযুষ রেমা, যুব বিষয়ক সম্পাদক কামাল উদ্দিন প্রমুখ। এহসানুল হক তার প্রবন্ধে কানাইঘাট উপজেলার কারিগরি শিক্ষার বর্তমান একটি চিত্র তুলে ধরেন। এক্ষেত্রে যে এই উপজেলা বেশ পিছিয়ে রয়েছে, সেটা তুলে ধরেন। সেমিনারে বক্তারা বর্তমান বিশ্বে দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং প্রবাসী অধ্যুষিত কানাইঘাট উপজেলায় কারিগরি শিক্ষার বিদ্যমান অবস্থা, সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং পাঁচ দফা প্রস্তাবনা গ্রহণ করেন।

প্রস্তাবনার মধ্যে আরো রয়েছে- উপজেলার প্রত্যেকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় ভোকেশনাল শাখা চালু করা, কৌমী মাদ্রাসা পড়–য়ারা যাতে কারিগরী কোর্স সহজে করতে পারে এই ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া; তরুণ-তরুণীদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ও কর্মমুখী  বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর ব্যবস্থা করা; যেসব প্রতিষ্ঠানে ভোকেশনাল শাখা চালু আছে, সেগুলোতে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দান ও সরঞ্জামাদি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য ট্রেডও চালু করা; সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।



এসএ/সিলেট