‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ...
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় অদম্য নারী পুরস্কার কার্যক্রমের আওতায় গণতন্ত্রের মানসকন্যা বেগম খালেদা জিয়াকে...
হাদি হত্যা মামলা
ছবি সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও সন্দেহভাজন শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আরেক আসামি আলমগীর হোসেনকে ভারতে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানানো গেছে। রবিবার রাতে সরকারের একাধিক বরাতে ঢাকাটাইমস এ তথ্য জানতে পেরেছে।
হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি ভারতে গ্রেপ্তার, দেশে ফেরাতে প্রক্রিয়া শুরু ডিএমপি কমিশনার কে হচ্ছেন? আলোচনায় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা
জানা যায়, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পশ্চিমবঙ্গে অভিযান চালিয়ে এই দুই আসামিকে আটক করে। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই ও পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি গণমাধ্যমও নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করছে।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুজনের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান বিন হাদি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আগে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে আলোচিত এই হত্যা মামলা তদন্তে নেমে পুলিশ ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনসহ অনেকের নাম পায়। আর হাদির মৃত্যুর পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও অরাজকতা দেখা দেয়। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোকও ঘোষণা করা হয়েছিল।
তাছাড়া হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। ২৩ ডিসেম্বর আদালত ব্যাংক ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন। সেদিনই ফয়সালের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।
প্রাথমিকভাবে পাওয়া এ তথ্যের ভিত্তিতে ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার–সংক্রান্ত পৃথক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে সিআইডি।
হাদি হত্যার মিশন যেভাবে পরিচালিত হয় গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে জানা গেছে, ৪ ডিসেম্বর রাত ৮টা ১৮ মিনিটে বাংলামোটরের ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে আসে ফয়সাল ও তার সহযোগী কবির। প্রায় ছয় মিনিটের সেই বৈঠকটি ছিল মূলত হাদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির প্রথম ধাপ। বৈঠকে ফয়সাল হাদির সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেয়।
এরপর ৯ ডিসেম্বর রাতে আবারও কালচারাল সেন্টারে আসে ফয়সাল। এবার তার সঙ্গে ছিল না কবির, নতুন সঙ্গী ছিল আলমগীর। ওই বৈঠকে আলোচনার বিষয় ছিল নির্বাচনী প্রচারণার পরিকল্পনা। সেখান থেকেই হাদির টিমে ঢুকে পড়ে ফয়সাল। পরদিন ১২ ডিসেম্বর সেগুনবাগিচায় হাদির প্রচারণায় সরাসরি অংশ নেয়।
প্রচারণায় অংশ নেয়ার পরই হাদিকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে ফয়সাল। মিশন বাস্তবায়নের জন্য নরসিংদী, সাভার, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় রেকি করে সে। ১১ ডিসেম্বর মিশন বাস্তবায়নের প্রস্তুতিতে ওঠে পশ্চিম আগারগাঁওয়ে বোনের বাসায়। হামলার দিন ভোরে উবারে করে যায় হেমায়েতপুরের একটি রিসোর্টে।
রিসোর্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন শুক্রবার ভোর ৫টা ২২ মিনিটে ফয়সাল ও আলমগীরের গাড়ি গ্রিন জোন রিসোর্টে প্রবেশ করে। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল ফয়সালের বান্ধবী মারিয়া ও তার বোন। সেখানে হাদির একটি ভিডিও বান্ধবীকে দেখিয়ে ফয়সাল জানায়, সে হাদির মাথায় গুলি করার পরিকল্পনা করেছে এবং এতে দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হবে। এ কারণে ঘটনার পর তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় ফয়সাল।
পরে উবারের গাড়িতে করে বান্ধবীকে বাড্ডায় নামিয়ে দেয় ফয়সাল। বেলা ১১টা ৫ মিনিটে আগারগাঁওয়ের বাসা থেকে মোটরসাইকেলে বের হয় ফয়সাল ও আলমগীর। তারা সরাসরি যায় হাদির সেগুনবাগিচার প্রচারণায়। সকাল পৌনে ১২টার দিকে সেখানে পৌঁছায় তারা। প্রচারণা শেষে দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে হাদি মতিঝিলের উদ্দেশ্যে রওনা হলে ফয়সালরা পেছন থেকে তার অটোরিকশা অনুসরণ করতে থাকে।
দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে হাদিকে বহন করা অটোরিকশা মতিঝিলের জামিয়া দারুল উলুম মসজিদের সামনে পৌঁছায়। আলমগীর মোটরসাইকেল পার্ক করলে দুজন নেমে আবারও প্রচারণায় যুক্ত হয়। মতিঝিলের দারুল উলুম মসজিদে জুমার নামাজ পড়েন হাদি। নামাজ শেষে সেখানে প্রচারণা করার কথা ছিল। আর সেই প্রচারণায় যুক্ত হয়েছিল অভিযুক্তরা।
নামাজ শেষে দুপুর ২টা ১৬ মিনিটে হাদি সেখান থেকে রওনা হলে ফয়সালরাও পিছু নেয়। উল্টো পথে মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে দৈনিক বাংলা মোড়ে ডান দিকে ঘুরে পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে ঢুকে পড়ে তারা। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ফাঁকা জায়গা খুঁজে বেড়ানোর পর দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে খুব কাছ থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে দুটি গুলি ছোড়ে ফয়সাল।
জুয়ে/সিলেট