আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানো মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম সহ মৃত্যুদণ্ড ৬

post-title

ছবি সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাই-আগস্টের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

এছাড়া সাত জনের যাবজ্জীবন, দুইজনের সাত বছরের কারাদণ্ড ও রাজসাক্ষী আফজালকে খালাস দিয়েছেন আদালাত। একইসঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে দুস্থদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করছেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ঘোষিত রায়ে পলাতক প্রধান আসামি সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মামলায় মোট ১৬ জন আসামির মধ্যে আটজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, মো. শাহিদুল ইসলাম এবং ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন অন্যতম।

অন্যদিকে সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক এসপি মো. আসাদুজ্জামান রিপন এবং আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এ এফ এম সায়েদসহ আটজন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। উল্লেখ্য যে, এই মামলায় এসআই শেখ আবজালুল হক নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় হওয়া মামলার তৃতীয় রায় এটি। গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন আদালত।

এর আগে, গত ২০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখা হয়। সেদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিখণ্ডন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন, মিরাজুল আলম ও আবুল হাসান। এরও আগে আসামিদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান।

মামলার ১৬ আসামির মধ্যে বর্তমানে আটজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।

গত বছরের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। সে সময় উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন এসআই শেখ আবজালুল হক। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানসহ মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

এর আগে, ২০২৫ সালের ২ জুলাই প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত। অভিযোগপত্রের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার অন্যান্য তথ্যসূত্র, ৬২ জন সাক্ষীর তালিকা, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণাদি এবং দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয় তরুণ নিহত হন। পরে পুলিশ ভ্যানে তুলে তাদের লাশে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় একজন এখনও জীবিত ছিলেন এবং তাকেও পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

এ ছাড়া, এর আগের দিন একই এলাকায় আরও একজন নিহত হন। নৃশংস এই ঘটনার পর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় শহীদ হয়েছেন সাতজন। তারা হলেন- শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।



জুয়ে/সিলেট /৫ ফেব্রুয়ারি