আদিবাসীরা রাষ্ট্রীয় অনেক সুযোগ সুবিধা...
সিলেট মেট্রোপলিট্রন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সলর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল বলেছেন, বর্তমানে আমরা এমন এক সময় পার করছি যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন, নির্বিচারে...
ছবি সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার একটি পরিবারে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতার করুণ ইতিহাস। একই বাড়ির দুটি পরিবারে বর্তমানে ১১ জন সদস্য দৃষ্টি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী।
দৃষ্টিশক্তিহীনতার কারণে তাদের কর্মসংস্থানের কোনো সুযোগ নেই। চরম দারিদ্র্য, বসবাসের অনুপযুক্ত ভাঙাচোরা ঘর, নদীভাঙন এবং বন্যার দুর্ভোগ- সব মিলিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের। ১১ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা লাগাটা নদীর ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বাড়িটির চারপাশ পানিতে তলিয়ে গেছে।
পানিবন্দি এসব দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলেন- ফখরুল মিয়া, কামাল মুন্সি, সোহান মিয়া, সুফি বেগম, শারমিন বেগম, জগলু মিয়া, ফাইজা বেগম, সাজক মিয়া, আনিকা, লাউল মিয়া ও আকবর আলী।
ঘরের ভেতর আশ্রয় নিয়ে থাকা এসব দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। দৃষ্টিশক্তি না থাকায় তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত ত্রাণ ও সহায়তা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছায়নি। ফলে, তাদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে অনিশ্চয়তা, উৎকণ্ঠা ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে।
তবে, সোমবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সুফি বেগম বলেন, ‘আমি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। চারদিকে পানি থাকায় কোনো কাজ করতে পারছি না। আগে মানুষের বাড়িতে গিয়ে কাজ করে কিছু সাহায্য পেতাম। কিন্তু বন্যার পর থেকে কেউ আমাদের কাছে আসতে পারে না, আমরাও কোথাও যেতে পারি না। একবেলা খেতে পারলে আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়।’
কামাল মুন্সি বলেন, ‘জন্ম থেকেই আমরা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আমাদের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরে আসবে না। এরপর থেকে কোনো চিকিৎসাও করানো হয়নি।’
স্থানীয় সমাজসেবক সুমন আহমদ বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সমাজ ও রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেক সামাজিক সংগঠনও সেখানে পৌঁছাতে পারছে না। তাই তারা পর্যাপ্ত ত্রাণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছেন এখনো।’
রাজনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আজাদুর রহমান বলেন, ‘১১ জনের মধ্যে ৮ জন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। বাকি ৩ জন আবেদন না করায়, এখনো ভাতার আওতায় আসেননি। আবেদন করলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, সরকারি কোনো বিশেষ সহায়তা বরাদ্দ এলে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা হবে।’
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই আমরা খোঁজ নিয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে সহায়তা বরাদ্দ পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
এসএ/সিলেট
সিলেট মেট্রোপলিট্রন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সলর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল বলেছেন, বর্তমানে আমরা এমন এক সময় পার করছি যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন, নির্বিচারে...
মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাসের রহমানকে নিয়ে কৃত্রিম বৃুদ্ধিমত্তা (এআই)...
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন। শুক্রবার রাত ৮টায় শ্রীমঙ্গল...
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চা নিলাম কেন্দ্রে ২০২৬-২০২৭ নিলামবর্ষের ১৪তম চা নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এ...
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩ টায় উপজেলা প্রশাসনের...