পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছু নেই- খোলা আকাশের নিচে অসহায় পরিবারগুলো

এক রাতেই ছাই দিরাই’র ৫৭ পরিবারের স্বপ্ন

post-title

তাজিদুল ইসলাম

রাজধানীর মিরপুরের বাউনিয়াবাদ এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার অন্তত ৫৭টি পরিবার এক রাতেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। আগুনে পুড়ে গেছে বসতঘর, আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, কাপড়চোপড়সহ জীবনের বহু বছরের সঞ্চয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতরাতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তের মধ্যেই তা পুরো বাউনিয়াবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত মানুষ জীবন বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেকেই ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করার সুযোগ পাননি। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন দিরাই উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের নবাব মিয়া। তিনি ১৫টি রুমের মালিক ছিলেন। ভয়াবহ আগুনে তাঁর সবগুলো রুম সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে ঘরগুলো তৈরি করেছিলাম। এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমি নিঃস্ব। 

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ পরিবারই সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার সন্ধানে তারা ঢাকায় এসে বাউনিয়াবাদ এলাকায় বসবাস করছিলেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন—

নোওয়াগাও এলাকার মনোয়ারা, বকুলা, সুর জাগান, বাবুল মিয়া, সেলিম মিয়া, অনুফা বেগম, রাজবাহার, লাল মিয়া ও শাহাবুদ্দিন।

আনোয়ারপুর এলাকার

সাদিকুর, আবু কালাম, জলিল মিয়া, সাদিকুর রহমান, বাবুল মিয়া, মনোরা, ইদন মিয়া ও সুমন মিয়া।

ধনপুর কাঁড়ারপার এলাকার

আব্দুর রহীম, বাবুল মিয়া, সামিরুল, দিলোরা, রইস আলী ও রফিকুল।

হরনগর এলাকার নেকজান বেগম, আমীর উদ্দিন, উজ্জ্বল, ময়না মিয়া, মতিবুর ও মহিমা বেগম।

ইসলামপুর এলাকার গিয়াসউদ্দিন, আবুল হোসেন, জমসেদ মিয়া, ওহেদুল ও বাবুল।

দিরাই বাগবাড়ি এলাকার ফারুক মিয়া, মনির হোসেন ও মেহিদি হাসান।

এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মুক্তার হোসেন (নাচনী চন্ডিপুর), পাভেল (পাথারিয়া গাজীনগর), হাবিজা বেগম (ঘাগটিয়া), রেসা বেগম (নরুত্তমপুর), জুবাইদ মিয়া ও আনোরা (কেজাউরা), শহীদনূর ও জালাল (রাজাপুর), লিজা আক্তার (কার্তিকপুর), আকলিমা ও ফিরুজা (জগদল), দিলারা ও পাখি বেগম (নাচনী টু), আহাম্মদ (তলবাউসী), আবু মিয়া (দিরাই বাস-স্টেশন), আমেনা (ভরার গাও ঢেং), দীন ইসলাম (ধনপুর) প্রমুখ।


ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই জানান, আগুন লাগার সময় তারা ঘুমিয়ে ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় কেউ কিছুই রক্ষা করতে পারেননি।

এক নারী বলেন, এখন পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেই। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় থাকবো বুঝতে পারছি না।”

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, আগুন আমাদের শুধু ঘর নয়, স্বপ্নও পুড়িয়ে দিয়েছে।


স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, কাপড়, ওষুধ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা প্রয়োজন। মানবিক সংগঠন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রবাসীদের প্রতি এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এদিকে আগুনের কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

টিএ/ছাতক