নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করলেন খন্দকার...
মহানগর ও সিলেট সদর উপজেলার উন্নয়নের লক্ষ্যে ১১ দফা অঙ্গীকার ও ভবিষ্যতে তা বাস্তবায়নের রূপরেখাসহ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।...
শ্রেণিকক্ষের বাইরে জ্ঞানচর্চার অনন্য উদ্যোগে সিলেট এমসি বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের বার্ষিক শিক্ষা সফরে প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ
তাজিদুল ইসলাম
সিলেট সরকারি এমসি বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের আয়োজনে ২০২৬ সালের বার্ষিক শিক্ষা সফর এক আনন্দঘন ও শিক্ষণীয় পরিবেশে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বিভাগটির সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গত রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী এ শিক্ষা সফরটি অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা সফরটি শুধু বিনোদনমূলক ভ্রমণেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, মননচর্চা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
শিক্ষা সফরের গন্তব্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যে ভরপুর স্থানসমূহ ঐতিহ্যবাহী, মাধবপুর লেক, গলফ মাঠ, দার্জিলিং টিলা, ক্যামেলিয়া লেক। প্রতিটি স্থানেই শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর পাশাপাশি পরিবেশ, সৌন্দর্য ও দর্শনচিন্তার পারস্পরিক সম্পর্ক উপলব্ধি করার সুযোগ পায়। প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধ শিক্ষার্থীদের চিন্তাজগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
শিক্ষা সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে আয়োজিত বিভিন্ন ইভেন্ট ও প্রতিযোগিতা। দলগত কার্যক্রম, চিন্তাশীল উপস্থাপনা ও সৃজনশীল প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পায়। এসব আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত, যা পুরো সফরকে আরও গতিশীল ও অর্থবহ করে তোলে।
শিক্ষা সফর সম্পর্কে দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ আবু নাসের খান বলেন, শিক্ষা সফর শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার বাইরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। প্রকৃতি ও বাস্তবতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জীবন, সমাজ ও দর্শনকে নতুনভাবে অনুধাবন করতে শেখে। এই ধরনের আয়োজন তাদের চিন্তাশক্তিকে আরও গভীর ও পরিণত করে।
সহকারী অধ্যাপক নুর মুহাম্মদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, দর্শন মানুষের জীবন ও বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি শাস্ত্র। শ্রেণিকক্ষের বাইরের পরিবেশে এসে শিক্ষার্থীরা যখন প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন দর্শনের ধারণাগুলো তাদের কাছে আরও বাস্তব ও অর্থবহ হয়ে ওঠে। এই সফর শিক্ষার্থীদের মননশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সহকারী অধ্যাপক রিংকু তালুকদার বলেন, এই ধরনের শিক্ষা সফর শিক্ষার্থীদের মাঝে পারস্পরিক সহযোগিতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও দলগত কাজের মানসিকতা গড়ে তোলে। একইসঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক আরও আন্তরিক ও মানবিক হয়ে ওঠে, যা একটি সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক।
দর্শন বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের নিরলস পরিশ্রম, সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুরো শিক্ষা সফরটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। যাতায়াত, সময় ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন কার্যক্রমের সমন্বয়ে তাদের দক্ষতা প্রশংসার দাবি রাখে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, সবমিলিয়ে এবারের বার্ষিক শিক্ষা সফর এমসি বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের জন্য একটি স্মরণীয় ও অনুকরণীয় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিক্ষা, প্রকৃতি ও আনন্দের সুষম সমন্বয়ে এই সফর শিক্ষার্থীদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
টিএ/ছাতক