বাইডেনকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জোরালো হচ্ছে

post-title

ছবি সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের টেলিভিশন বিতর্ক একে অন্যকে লক্ষ্য করে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ করেছেন দেশটির দুই প্রধান প্রার্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চার বছরের মধ্যে এই প্রথম তারা আগামী ৫ নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে একে অন্যের মুখোমুখি হলেন।  

পররাষ্ট্র নীতি, অর্থনীতি, সীমান্ত ইস্যু, সামাজিক নিরাপত্তা, চাইল্ড কেয়ার, কংগ্রেস ভবনে হামলার ঘটনা এবং গর্ভপাতসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলার সময় তারা একে অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলার অভিযোগ আনেন এবং পরস্পরকে তীব্র বাক্যবাণে জর্জরিত করার চেষ্টা করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থনীতি সামলানো, পররাষ্ট্র নীতির রেকর্ড ও ব্যাপক সংখ্যক অভিবাসীর বিষয়ে বাইডেনের তীব্র সমালোচনা করেন। অন্যদিকে আদালতে সম্প্রতি ট্রাম্পের সাজার প্রসঙ্গ তুলে মি. ট্রাম্পকে ‘গণতন্ত্রের জন্য হুমকি’ বলে উল্লেখ করেন।

দেশটির স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বাইডেন ও  ট্রাম্পের মধ্যকার প্রথম বিতর্কটি শুরু হয়। সিএনএন আয়োজিত এই বিতর্ক আটলান্টায় মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির স্টুডিওতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় দেড় ঘণ্টার ওই বিতর্কে ট্রাম্প ৪০ মিনিট ১২ সেকেন্ডের মতো কথা বলেছেন। অপর দিকে বাইডেন কথা বলেছেন ৩৫ মিনিট ৪১ সেকেন্ড।

খবরে বলা হয়েছে, বাইডেনের এমন বিতর্কে অনেক ডেমোক্র্যাট সমর্থকই হতাশ। ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, ট্রাম্পকে জোরালোভাবে মোকাবিলা করতে পারেননি বাইডেন। এ সুযোগে ট্রাম্প অনর্গল মিথ্যা বলে গেছেন। অনেকে এটিকে বাইডেনের জন্য হতাশার রাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এইদিন ট্রাম্প বিতর্কের শুরুতে বলেছেন, আমি আসলে জানিনা বাইডেন বাক্যের শুরুতে কী বলেছেন। আমার মনে হয়না তিনিও বুঝতে পেরেছেন। আমরা তার প্রেসিডেন্সিকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

এদিন বাইডেন ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেছেন, এই মঞ্চে একমাত্র সাব্যস্ত ব্যক্তি যার দিকে এখন আমি তাকিয়ে আছি। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটাল হিলে হামলার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, আপনি অনেক নির্দোষ মানুষের জীবন ধ্বংস করেছেন। তবে এ নিয়ে ট্রাম্প মিথ্যা বলেছেন বলে টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যদিও এর জবাবে বাইডেন বলেছেন, ট্রাম্পের এমন অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই।

এদিকে বাইডেনের বিতর্ক নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস বলেছেন, হ্যাঁ শুরুটা ধীরগতি ছিল তবে শেষটা জোরালো হয়েছে। টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন বাইডেন ছোট এবং ধীর গতিতে মঞ্চে আসেন। তাকে বিতর্ক করার সময় প্রায় ডেস্কে হাত ধরে থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া বিতর্কের সময় নির্দিষ্ট প্রসঙ্গের জবাব না দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক উত্তর দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিবিসির স্পেশাল করেসপন্ডেন্ড কেইটি কে লিখেছেন, এবারের বিতর্কের ফরম্যাট ছিলো আমেরিকানদের জন্য তুলনামূলক ভালো। তবে সঞ্চালকরা তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করেননি এবং এটা ছিল জো বাইডেনের জন্য একটি খারাপ রাত।

তার অনেক জবাবই পরিষ্কার ছিলো না। তাকে বয়স্ক মনে হচ্ছিল। তবে বিতর্কের দ্বিতীয় ধাপ তার জন্য কিছুটা ভালো ছিল এবং তিনি কিছুটা শক্তি পেয়েছিলেন। তবে এটা হতে হতে অনেক দেরি হয়ে গেছে। বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতেছেন।

এদিন বিতর্কের সময় বাইডেনের কণ্ঠ খসখসে শোনাচ্ছিল। তবে এ নিয়ে তার প্রচার দল বলেছে,  গত কয়েকদিন ধরে বাইডেনের ঠাণ্ডা লাগার কারণে কণ্ঠ এমন শোনাচ্ছে।  

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান স্টেফাইন মারফি বিবিসিকে বলেছেন,  কিছু মুহূর্ত ছিল যেখানে বাইডেন তার বয়স তুলে ধরেছেন। তাকে বোঝাটা কষ্টসাধ্য ছিল।

কিন্তু অন্যদিকে তার মতে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছু মন্তব্য করেছেন যা ‘সত্যি নয়’ এবং এগুলো সত্যতা যাচাই করা উচিত। তিনি বলেন তার উদ্বেগের জায়গা হলো নির্বাচনের ফল গ্রহণ করবেন কিনা তা বলতে ডোনাল্ড ট্রাম্প অনীহা দেখিয়েছেন।

সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান রোডনি ডেভিস বলেছেন বিতর্কটি ছিল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিষ্কার জয়’। আমেরিকাজুড়ে ডেমোক্র্যাটদের জন্য দুঃখজনক যে বিতর্কের ধরণটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সহায়তা করেছে, বলেছেন তিনি।

বিবিসির ম্যাডেলাইন হ্যালপার্টকে দেয়া সাক্ষাতকারে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রফেসর কোরউইন স্মিডট বলেছেন,  বাইডেন তার অনেক দুর্বলতা দেখিয়েছেন এবং খুব বেশি শক্তির জায়গা দেখাননি।

ভিজুয়াল, কণ্ঠ ও জবাব দেয়ার গতির কারণে তাকে অনুসরণ করাটা কঠিন ছিল। “অনেক তথ্যভিত্তিক জবাব ও পয়েন্ট প্রেসিডেন্ট বাইডেন দিয়েছেন। কিন্তু বলার ধরণের কারণে সেগুলো দ্রুত হারিয়ে গেছে,” বলছিলেন তিনি। তাই বাইডেনের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বানও জোরালো হচ্ছে।

এসএ/সিলেট