জগন্নাথপুরের সাবেক ইউএনও সাজেদুল ইসলামসহ ১৪ জনকে হাইকোর্টের শোকজ

post-title

প্রতীকী ছবি

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জগন্নাথপুরের সাবেক ইউএনও সাজেদুল ইসলামসহ ১৪ জনকে শোকজ করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। গত ৭ মে বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মবিন ও বিচারপতি মোহাম্মদ মাহমুদ হাসান তালুকদার এর বেঞ্চে শুনানি শেষে এ আদেশ হয়।

মামলার বিবরণ সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলামসহ ছয় সরকারি কর্মকর্তা ও হবিবপুর গ্রামের সাত ব্যক্তিকে সরকারি জমি দখলকার বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর পৌর শহরের হবিবপুর গ্রামের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মুহিতুর রহমান তালুকদার নামে একজন আইনজীবী গত বছর জবর দখলদারের কবল থেকে জমি উদ্ধারের আবেদন করলে জমি উদ্ধারে ভূমিকা না রেখে উল্টো প্রতিকার প্রার্থীর কাছে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ এনে সুনামগঞ্জের সিনিয়র স্পেশাল জজ ও দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে স্পেশাল মামলা নং ০৩/২০২৩ নম্বরভূক্ত করে দুনীতি দমন কমিশন দুদক কে তদন্তের দায়িত্ব দেন। মামলা দায়েরের পর দখলকৃত ভূমির আংশিক উচ্ছেদ করা হয়।

পরবর্তীতে দুদক আইন সঙ্গত বিষয়ে মামলাটি তদন্ত না করে রিপোর্ট দাখিল করলে স্পেশাল জজ মামলাটি খারিজ করেন। স্পেশাল জজের আদেশের বিরুদ্ধে মামলার বাদী মুহিতুর রহমান মহামান্য হাইকোর্টে ফৌজদারী রিভিশন মামলা দায়ের করেন।

শুনানী শেষে মহামান্য হাইকোর্টের বেঞ্চে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, জগন্নাথপুরের সাবেক ইউএনও সাজেদুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুম, সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসির আরাফাত, সাবেক সার্ভেয়ার আব্দুল মোনায়েম খান, বর্তমান সার্ভেয়ার মুহিবুর রহমান ও ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা একে এম নাজমুল হুদা খান।

অন্যরা হলেন– হবিবপুর গ্রামের বাসিন্দা আলকাব আলী, সিজিল মিয়া, রুহিন মিয়া, সুজাত মিয়া, আবু শায়েক, আলী আকবর ও জামাল মিয়াকে শোকজ ও অপর পক্ষের ওপর রুল জারি করেন।

মামলার বাদী সিলেট জজ আদালতের অ্যাডভোকেট মুহিতুর রহমান তালুকদার জানান, দখলদাররা ভূমি অফিসের কর্মচারীদের ম্যানেজ করেই সরকারি ভূমিতে দোকানপাট ও পাকা বসতঘর করে আছেন। উচ্ছেদের কোনো প্রতিকার না পেয়ে ২০২১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক বরাবর আমি আবেদন করলে জেলা প্রশাসক ওই সময় জেলা রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর আরডিসিকে ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব দেন।

পরে আরডিসি ওই বছরের ২৪ অক্টোবর ইউএনও সাজেদুল ইসলামকে অবৈধ দখলকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সার্ভেয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে বলেন।

সার্ভেয়ারের সঙ্গে কথা বললে তিনি দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এঘটনায় আমি সুনামগঞ্জ জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আংশিক উচ্ছেদ করা হয়।

পরবর্তীতে দুদক মামলা তদন্ত করার কথা থাকলেও সঠিকভাবে তদন্ত না করে মামলা খারিজ করায় আমি মহামান্য হাইকোর্টের শরণাপন্ন হলে আদালত মামলা গ্রহণ করে রুল জারি করে সবাইকে শোকজ করেন। এখন আমি ন্যায় বিচার পাবো বলে আশাবাদী।



এসএ/সিলেট