কানাইঘাটে ফের ভয়াবহ বন্যা : বিপর্যস্ত জনজীবন

post-title

ছবি সংগৃহীত

গত কয়েকদিন থেকে টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফের সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।

কানাইঘাট সুরমা ও লোভা নদীর পানি হু হু করে বেড়ে যাওয়ার কারনে সম্প্রতি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সুরমা নদীর ডাইকের একাধিক ভাঙন দিয়ে প্রবল স্রোত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। টানা ভারি বর্ষন ও বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।


কানাইঘাট চতুল-দরবস্ত সড়ক, গাজী বোরহান উদ্দিন সড়ক, কানাইঘাট শাহবাগ সড়ক, সুরইঘাট-কানাইঘাট সড়কের নিচু এলাকা দিয়ে বন্যার পানি তীব্র বেগে প্রবাহিত হওয়ায় সিলেটের সাথে কানাইঘাট সদরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। কানাইঘাট-শাহবাগ সড়কের রামপুরে সম্প্রতি ১ম দফার বন্যায় ভেঙে যাওয়া সড়কের স্থান পানির তীব্র স্রোতে বিশাল আকারে ভেঙে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রত্যান্ত এলাকার গ্রামীন রাস্তা-ঘাট, সুরমা, লোভা ও কুশিয়ারা নদীর পানি অব্যাহত ভাবে বেড়ে যাওয়ার কারনে তলিয়ে গেছে। শত শত বাড়ি-ঘর বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

বিশেষ করে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারনে লোভা ও সুরমা নদীতে গত সোমবার ঈদের দিন বিকেল থেকে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। মঙ্গলবার সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ১৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা নাসরিন গত দু’দিন থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে বন্যা পরিস্তিতি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে তুলে ধরছেন। বিশেষ করে টানা ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ার কারনে কানাইঘাট লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব, লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম এবং ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের টিলা ও পাহাড়ী এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণকে সচেতন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাবধান করা হচ্ছে যাতে করে পাহাড় বা টিলা ধসে জানমালের ক্ষতিসাধন না হয়। এজন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন টিলায় লাল পতাকা টানানো হয়েছে।

নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা নাসরিন বলেন, টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে পাহাড়ি ঢলের কারনে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী লোকজন যাতে করে নিরাপদ স্থানে যেতে পারেন এবং আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে পারেন এজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে নৌকা রাখা হয়েছে।

প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারি ট্যাগ অফিসার নিয়োজিত করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের সার্বক্ষণিক ভাবে পানিবন্দী লোকজনদের খোঁজ-খবর নেয়া সহ তাদেরকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি বন্যায় বরাদ্দ পাওয়া ত্রাণ সামগ্রী প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্র ও পানিবন্দী এলাকায় বিতরণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সুরমা ডাইক মেরামতের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। পানি কমার সাথে সাথে ডাইক মেরামতের কাজ শুরু হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও রাস্তা-ঘাটের ক্ষয়ক্ষতি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরকে জানানো হয়েছে, সেই আলোকে মেরামত করা হবে বলে নির্বাহী কর্মকর্তা জানান।

এছাড়াও পবিত্র হজে সৌদিআরবে অবস্থানরত সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাংসদ মাও. হুছামুদ্দীন চৌধুরী সার্বক্ষণিক ভাবে কানাইঘাট-জকিগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সুরমা ডাইক ও রাস্তা-ঘাট দ্রুত সংস্কার মেরামতের জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরকে অবহিত করছেন তিনি।

উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মস্তাক আহমদ পলাশ সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং আজ সরেজমিনে বন্যা দুর্গত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন তিনি। এছাড়াও কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং পুলিশের পক্ষ থেকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে যাতে করে পানিবন্দী লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা যায়।

এসএ/সিলেট