ঈদের দিনও রক্ত ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রেহাই পেলো না ফিলিস্তিন

post-title

ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ রবিবার উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব ঈদুল আজহা। ইজরায়েলি বাহিনীর পৈশাচিক আগ্রসনে বিপর্যস্থ ফিলিস্তিনেও আজ ঈদ হচ্ছে। তবে এই ঈদের দিনেও আনন্দ নয় বরং রক্ত আর ধ্বংসযজ্ঞেরই মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। আজ ঈদের দিনেও ফিলিস্তিনের প্রধান শহর গাজা এবং রাফা শহরের পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলি বাহিনী। সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী তাল এস-সুলতান এলাকাতেও হামলা হয়েছে। তাল এস-সুলতান শহরে হামলায় শত শত পরিবার আটকা পড়েছে।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, শনিবার সকাল থেকে গাজা উপত্যকার দির আল-বালাহ শহরে প্রচণ্ড বোমাবর্ষণ করেছে ইজরায়েলি বাহিনী। তাদের দাবি, হামাসসহ ফিলিস্তিনের স্বশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই শহরের অবকাঠামো অবকাঠামো ব্যবহার করেছে। তবে এর বাইরে হামলা সম্পর্কে ইজরায়েলি বাহিনী আর বিস্তারিত কোন তথ্য দেয়নি। হামলায় এসব স্থানের বাড়িঘর থেকে অসংখ্য স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, রোববার গাজা শহরের তিনটি পৃথক বাড়ি থেকে অন্তত ১০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একইদিন রাফা এবং গাজার শহরের শরণার্থী শিবিরেও নির্বিচারে গোলাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ।

এই মৃত্যু, কান্না আর রক্তপাত সঙ্গে নিয়েই ধ্বংসস্তুপের মধ্যে সকালে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন ফিলিস্তিনিরা। গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস শহরে ইজরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া আল-রাহমা মসজিদে এ দিন ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নারী ও শিশুরাও উপস্থিত ছিলো।

এদিকে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় তীব্র অপুষ্টির শিকার অর্ধ লক্ষাধিক শিশুর অবিলম্বে চিকিৎসার প্রয়োজন। গত শনিবার এক বিবৃতিতে ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে, মানবিক সাহায্য প্রবেশে ইজরায়েলের ক্রমাগত বিধিনিষেধের ফলে গাজার মানুষ এখন প্রচণ্ড ক্ষুধার মুখোমুখি হচ্ছে। এর মধ্যেই ইউএনআরডব্লিউএ দুস্থ পরিবারগুলোর কাছে সাহায্য পৌঁছাতে চেষ্টা করছে। কিন্তু পরিস্থিতি সত্যি বিপর্যয়কর।


এসএ/সিলেট