সুরমার পানি কমছে : আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছে মানুষ

post-title

ফাইল ছবি

নগরীর বন্যা কবলিত বাসিন্দারা আশ্রয় কেন্দ্রগুলো থেকে নিরাপদে বাড়ি ফিরেছেন। বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় শুক্রবার নগরীর সবকটি আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরে যাওয়া আশ্রয় কেন্দ্রগুলো ফাঁকা রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্যা কবলিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলরবৃন্দ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে গত ২৪ ঘন্টায় সুরমা নদীর পানি ১০.২৩ সে.মি. নেমে এসেছে যা বিপদসীমার অনেক নিচে এবং ১ মি.মি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টিপাতে সিলেট নগরীতে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশন মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশে জরুরি সভা করে বন্যা পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে নানা কর্মসূচি হাতে নেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ছুটি বাতিল করে বন্যা কবলিত ওয়ার্ড গুলোতে আশ্রয় কেন্দ্র চালু করে কর্মতৎপর ছিলো সিসিক।

সুরমা নদীর পাড়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বাধ নির্মাণ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় কাউন্সিলরদের মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে নিয়মিত শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার, পানি, পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ টন চাল ও নগদ ২ লক্ষ টাকা ত্রাণ সহায়তা এবং সিটি কর্পোরেশন পক্ষ থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরন করা হয়েছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, সিসিক মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী দায়িত্ব নেয়ার পর পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে শহরকে হকার মুক্ত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং জলাবদ্বতা থেকে রক্ষার উদ্যোগ করেন। এর ধারাবাহিকতায় প্রথমে নগরীর প্রত্যেকটি ছড়া খাল পরিস্কার করার পাশাপাশি নগরীকে হকারমুক্ত করেন তিনি। তবে নিকট অতীতে দেখা যেতো ১ ঘন্টার বৃষ্টিতে নগরীর বেশিরভাগ সড়ক বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যেতো। দায়িত্ব হেয়ার পর খুব দ্রুততার সাথে এ সমস্যা সমাধান করেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এখন টানা ৩ দিনের বৃষ্টিতেও নগরীতে জলাবদ্ধতা দেখা যায়না।

সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর জানান, এবারের পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টির কারনে সিলেট নগরীতে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। বন্যায় সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ টন চাল ও নগদ ২ লক্ষ টাকা ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয় এবং সিসিকের পক্ষ থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বন্যা পরবর্তী শহরের খাল-ছড়া ও সড়ক পরিচ্ছন্ন অভিযান শুরু করেছে সিসিকের সিসিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখা। জলাবদ্ধতা তৈরি হয় এমন ছড়া-খালে যেমন নগরীর মালনীছড়া, হলদিছড়া, বৈঠাখাল, বসুখালের পরিচ্ছন্নতা অভিযান কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কাউন্সিলরদের দেয়া তথ্যমতে নগরীর সবকটি আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বন্যার্ত মানুষ চলে যাওয়ায় আশ্রয় কেন্দ্রগুলো ফাঁকা রয়েছে।



এসএ/সিলেট