সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি : বাড়ছে দুর্ভোগ

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেট বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সুরমা নদীর পানি এখন বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগের দিন থেকে বুধবার (৫ জুন) কিছুটা উন্নতি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতির। বন্যার পানি কমলেও বেড়েছে দুর্ভোগ।

মহানগর ও জেলা মিলিয়ে বর্তমানে সাড়ে ৬ লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। মঙ্গলবার (৪ জুন) পর্যন্ত ছিলেন প্রায় সাড়ে ৭ লাখ।

সিলেটে ২৭ মে দেখা দেয় বন্যা। ওই দিন জেলার ৫টি উপজেলায় বন্যা কবলিত হয়। বর্তমানে ১০টি উপজেলায় রয়েছে বন্যার পানি। তবে উন্নতি হচ্ছে পরিস্থিতির।

বুধবার জেলা প্রশাসনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যমতে- বর্তমানে জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬৩টি ইউনিয়ন এবং ১৩ ওয়ার্ডের ৮৪২টি গ্রাম/পাড়ার ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬২ জন পানিবন্দী। 

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা কবলিত উপজেলাগুলোতে মোট ৫৭১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বর্তমানে ৪ হাজার ৫ শ ৫ জন অবস্থান করছেন। 

জেলা প্রশাসন সূত্র আরও জানিয়েছে- বর্তমানে  সিলেট মহানগরের ১৩ ওয়ার্ডে বন্যার পানি রয়েছে। শুরুতে অন্তত ৩০টি ওয়ার্ড পানিবন্দী ছিলো। গত দুদিন থেকে ধীরে ধীরে নামছে পানি। মহানগরে ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বুধবার এসব কেন্দ্রে ৪ হাজার মানুষ আশ্রয়ে আছেন।

এদিকে, সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সকালে সিলেটের কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি ১৩.৩১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেখানে মঙ্গলবার ছিলো ১৩.৪৩ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ পানি এখনও বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার উপরে আছে।

অপরদিকে জকিগঞ্জের আমলশীদে কুশিয়ারা নদীর পানিও কিছুটা কমলেও বিপদসীমার ১৫.৬২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা মঙ্গলবার ছিলো ১৫.৬৪ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারার পানি এখনও বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপরে।

তবে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সিলেট শহরের সুরমা নদীর পানি। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে বৃষ্টি হয়েছে ১৪৩.৪ মিলিমিটার। পাউবো বলছে, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে আর বৃষ্টি না হলে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

বৃষ্টি এবং ভারতের মেঘালয় থেকে পাহাড়ি ঢল কমে যাওয়ায় সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোর বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে পানি কমলেও বেড়েছে দুর্ভোগ।

পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের পানি ধীরে ধীরে কমতে থাকায় দৃশ্যমান হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতি। পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, লোভা, ধলাই ও পিয়াইন নদীপারের বাসিন্দাদের বাড়ি ঘর, রাস্তা ঘাট। 

এসএ/সিলেট