সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি বিজেপি, হতে পারে জোট সরকার

post-title

ফাইল ছবি

গতকাল মঙ্গলবার শেষ হয়েছে ভারতের লোকসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি। প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, ৫৪৩টি আসনের এর মধ্যে এনডিএ পেয়েছে ২৯৩টি। এককভাবে বিজেপি পেয়েছে ২৪০টি আসন। ইন্ডিয়া জোট পেয়েছে ২৩১টি আসন। সরকার গঠনের জন্য ২৭২টি আসন প্রয়োজন। তবে এককভাবে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

ভোটের ফলাফল প্রকাশের দিন বিকেল থেকে যে প্রবণতা দেখা গেছে তাতে এটা স্পষ্ট, বিজেপির উচ্ছ্বাসপূর্ণ প্রচারাভিযান সফল হয়নি। কারণ, দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতার রেখাই ছুঁতে পারেনি। বরং অত্যন্ত আগ্রাসী প্রচারণা, উচ্চ বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতির মতো বিষয়গুলো কাজ করেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। এ পরিস্থিতিতে এনডিএ জোটের সঙ্গে কি থাকবে জেডিইউর নীতিশ কুমার অথবা চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি? নাকি এনডিএ জোটে এ দল দুটি শর্ত দেবে– নরেন্দ্র মোদিকে আবার প্রধানমন্ত্রী করা না হলে তবেই তারা বিজেপিকে সমর্থন জানাবে?

১৫ ও ১৬ আসন পাওয়া জেডিইউ ও টিডিপি যদি এনডিএ জোট থেকে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বিজেপি বিরোধী দলের আসনে বসতেও বাধ্য হবে। এক্ষেত্রে এনডিএ জোটে নীতিশ কুমার ও এন চন্দ্রবাবু নাইডু ‘কিং মেকারের’ ভূমিকায় থাকতে পারেন।

এদিকে ইন্ডিয়া জোট শিবিরে জোরালো দাবি উঠেছে নীতিশ ও চন্দ্র বাবুর সঙ্গে কথা বলে তাদের সমর্থন চাওয়ার ব্যাপারে। আজ ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে জোটভুক্ত দলগুলোর কাছে এমন প্রস্তাব রাখা হবে। তারা সমর্থন দিলে চন্দ্রবাবু নাইডু এবং নিতীশ কুমারকে জোটে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

নীতিশ এবং চন্দ্র বাবু দুজনেরই কংগ্রেসের হাত ধরে একসঙ্গে চলার পুরনো ইতিহাস রয়েছে। তাই জাতীয় রাজনীতিতে সুবিধাবাদী হিসেবে পরিচিত এই দুই রাজনীতিবিদ শিবির বদল করবেন না এমন গ্যারান্টি দিচ্ছে না জোটের দিকপাল নেতারাও। ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের ধারণা, ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ডুবন্ত নৌকা এনডিএ জোটের হাত ছেড়ে ইন্ডিয়া জোটের হাত ধরতে পারেন নীতিশ ও চন্দ্রবাবু। আর এমন ঘটনা ঘটলে স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতে দেখা দেবে চূড়ান্ত সাংবিধানিক জটিলতা।

নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরেই রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানায় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বা জোট। সেই হিসেবে আজ বুধবার এনডিএ শিবিরের রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনে দাবি জানানোর কথা। এক্ষেত্রে নীতিশ-নাইডু ‘ইন্ডিয়া জোটে’ যোগ দিলে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া থেকে ছিটকে যাবে মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ।

সূত্রের খবর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে গোপনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে এ দুই নেতার সঙ্গে। তবে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে তাদের সমর্থন পেলেও সরকার গঠন খুব সহজ হবে না ইন্ডিয়া জোটের। সরকার গঠন থেকে আরও অন্তত দশ আসন দূরে থেকে যাবে ইন্ডিয়া জোট। সেক্ষেত্রে ইন্ডিয়া জোটের ভরসা কোনো জোটের অংশ না নেওয়া ১৮ সংসদ সদস্যের সমর্থন।

এদিকে ইন্ডিয়া জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো শীর্ষ নেতা। তবে নাম না প্রকাশের শর্তে তৃণমূল কংগ্রেসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা জেডিইউ-টিডিপির সমর্থন ছাড়াই বিরোধী আসনে বসতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করব। সেই কথাই আমরা আগামীকাল (বুধবার) ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে তুলে ধরব। আমরা চাই দুই পাল্টিবাজ সমর্থন নিয়ে বারবার সরকার পতনের শঙ্কা নিয়ে সরকার গঠন করুক এনডিএ।’


এসএ/সিলেট