কানাডাকে উড়িয়ে রেকর্ড ভাঙল যুক্তরাষ্ট্র

post-title

ছবি সংগৃহীত

আনুষ্ঠানিক কোনো জৌলুস ছাড়াই শুরু হয়েছে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে দিনশেষে মাঠের খেলাই যে আসল, সেটাই প্রমাণ করলো প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চ মাতাতে আসা আইসিসির দুই সহযোগী দেশ কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র। একঝাঁক রেকর্ড আর চার-ছক্কার পসরা মেলে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে কানাডাকে হারাল যুক্তরাষ্ট্র।

রোববার নিউইয়র্কের ডালাসে বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। টস হেরে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেট হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ১৯৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় কানাডা। যা ছিল টুর্নামেন্টে কোনো আইসিসি সহযোগী সদস্য দেশের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। তবে কানাডাকে উড়িয়ে রেকর্ড ভেঙে সেটি নিজেদের করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। আন্দ্রেস গুস ও অ্যারন জোনসের তাণ্ডবে ১৪ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্র। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এত দিন ধরে শীর্ষে ছিল নেদারল্যান্ডসের ৪ উইকেটে ১৯৩ রান। ২০১৪ আসরে আয়ারল্যান্ডের ১৮৯ রানের জবাবে মাত্র ১৩.৫ ওভারে এই রান করেছিল ডাচরা।

কানাডার দেয়া টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই উইকেট হারায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর দলীয় ৪২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় তারা। তৃতীয় উইকেটে গুস ও জোনস জুটি বেঁধে দলের সব শঙ্কা দূর করে দেন। ম্যাচের সময় যতই বাড়ছিল এ দুই ব্যাটার খোলস ছেড়ে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালাচ্ছিলেন। তৃতীয় উইকেট জুটিতে দুজন মিলে তুলেছেন ১৩১। ওভারপ্রতি রান এসেছে ১৪.২৯ গড়ে, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যেকোনো সেঞ্চুরি জুটির সর্বোচ্চ রানরেট। শেষ পর্যন্ত দলীয় ১৭৩ রানে গুসকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নিখিল দত্ত। তার আগে গুস ৪৬ বলে ৩ ছক্কা ও ৭ চারে ৬৫ রানের ঝকঝকে ইনিংস উপহার দেন।

চতুর্থ উইকেটে কোরি অ্যান্ডারসনকে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন অ্যারন জোনস। তিনি ৪০ বলে ১০ ছক্কা ও ৪ চারে ৯৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচ শেষে জোনসের ৬ রানের আক্ষেপ থেকে গেল। কোরি অ্যান্ডারসন অপরাজিত থাকেন ৩ রানে।

এর আগে, ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্দান্ত শুরু পায় কানাডা। দুই ওপেনার অ্যারন জনসন ও নাভনিত ধালিয়ালের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ইনিংসের পাঁচ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ৪৩ রান জড়ো করে তারা। তবে পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে উইকেটের দেখা পায় স্বাগতিক দল। হারমীতের বলে নিতিশ কুমারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫ বাউন্ডারিতে ১৬ বলে ২৩ রানে ফেরেন জনসন। এরপর ব্যাটিংয়ে আসা প্রাগাত সিংও বেশিক্ষণ ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি। ৭ বলে মাত্র ৫ রানেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি।

হঠাৎ জোড়া উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে কানাডা। তবে ধালিওয়ালের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে চাপ সামলে নেন নিকোলাস কিরটোন। তাদের ৩৭ বলে ৬২ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন বুনেছিল কানাডা। ৪৪ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৬১ রানে যখন থেমে যায় ধালিওয়ালের ইনিংস। ২৮ বলে টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম ফিফটি পেয়ে যান বাঁহাতি কার্টন। আলি খানের বলে আউট হয়ে ৩১ বলে ৫১ রানে আউট হলে বড় হয়নি তার ইনিংস। নিজের ইনিংসে মারেন ৩ চার ও ২ ছক্কা। পাঁচে নামা শ্রেয়াস মোভার ঝড়ো ইনিংসে ভালো সংগ্রহ গড়তে পারে কানাডিয়ানরা। ১৬ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেনে মোভা। স্বাগতিকদের হয়ে হারমীত সিং, কোরি অ্যান্ডারসন ও আলি খান একটি করে উইকেট নেন।


এসএ/সিলেট