বন্যা দুর্গতদের পাশে সিলেটের জেলা প্রশাসক

গোয়াইনঘাটে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি : কয়েক হাজার মানুষ পানবন্দী, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেটের গোয়াইনঘাটে আকষ্মিক পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার আরও অবনতি হয়েছে। স্থায়ী রুপ নিচ্ছে অতিবৃষ্টির ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যা। উপজেলার সাথে সারী-গোয়াইনঘাট সড়ক ছাড়া ১১টি ইউপির সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম দূর্ভোগে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। হাওরাঞ্চলে বসবাসরত কয়েক হাজার মানুষ রয়েছেন পানবন্দী।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোঁর থেকে থেকে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা যেন তিলে তিলে গ্রাস করছে সীমান্ত জনপদ গোয়াইনঘাটকে। এছাড়াও অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলাবাসীর মাঝে বাড়ছে ভয়াবহ বন্যার আতংক।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার উনাই হাওরে নির্মানাধীন ব্রিজ, বঙ্গবীর ট্রানিং ও তোয়াকুল ব্রীজ নির্মানে ধীরগতি থাকায় তোয়াকুল, নন্দিরগাঁও রুস্তমপুর,পশ্চিম জাফলং, সদর, পূর্ব জাফলং ও মধ্য জাফলং ইউপির সড়ক যোগাযোগ ব্যাবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়াও গোয়াইনঘাট রাধানগর রাস্তার এক তৃতীয়াংশ বন্যায় তলিয়ে যাওয়ার কারণে জরুরি কাজে উপজেলা সদরে আসতে কেউ কেউ ইঞ্জিন নৌকা ব্যবহার করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বিভিন্ন ইউনিয়নের হাওরাঞ্চলের হাজারও মানুষ রয়েছেন পানি বন্দী।

এছাড়াও উনাই হাওরে বাইপাশ সড়ক নিমজ্জিত থাকায় ঐ এলাকার বাজার গুলোতে নিত্য পণ্যে সরবরাহে বিঘ্নিত ঘটছে। ফলে জনসাধারণের দূর্ভোগ চরমে। একদিকে পানিবন্দী অন্যদিকে মানুষের কর্মসংস্থান না থাকায় দিনমজুর শ্রমিকেরা বেকার হয়ে পড়েছেন ফলে কাটছে মানবেতর দিন। হাওর বেষ্টিত গোয়াইনঘাট উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে গোচারণ ভূমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষক পরিবার তাদের গৃহপালিত পশু নিয়ে রয়েছেন শংঙ্কায়। অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢল অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের বিপদের শংঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুল ইসলাম জানান, গোয়াইনঘাট উপজেলার ৭০ভাগের বেশি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি মেম্বারদের সমন্বয়ে স্থানীয় ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। পানি বন্দী মানুষকে উদ্ধারে জাফলং পর্যটক ঘাটের দেড় শতাধিক নৌকা এবং প্রতিটি ইউনিয়নের স্থানীয় নৌকা সমূহ ব্যবহার হচ্ছে।

২৬ টি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ২৩৫৬ জন আশ্রয় নিয়েছে। গবাদি পশু আশ্রয় নিয়েছে ৬৪৫ টি। বন্যা দুর্গত বিপুল সংখ্যক জনগণ নিকটস্থ আত্মীয়-স্বজনের নিরাপদ উঁচু স্থাপনাতেও আশ্রয় নিয়েছেন। মোট ১৬৬০ হেক্টর আবাদি জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত। এছাড়া ৩৪৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত রয়েছে। বন্যা দুর্গত মোট পরিবার সংখ্যা ৪২,৯০০ টি মোট বন্যা দুর্গত জনগণ সংখ্যা: ২,৪৫,৯৫০ জন।


বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে সিলেটের জেলা প্রশাসক

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় গোয়াইনঘাট উপজেলার বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।

পরিদর্শনকালে তিনি সারীঘাট এলাকা থেকে নৌকায় করে ৫নং পূর্ব আলীরগাঁও, ১০নং পশ্চিম আলীরগাঁও গোয়াইনঘাট সদর এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনের সময় পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের লাফনাউট বাজারে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বন্যা দুর্গত ও পানিবন্ধী পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু  করেছেন।

উপজেলা ত্রান ও দূর্যোগ শাখার কর্মকর্তা  (পিআইও) শীর্ষেন্দূ পুরকাস্থ বলেন, সরকার প্রদত্ত আমাদের পর্যাপ্ত ত্রান রয়েছে, উপজেলা জুড়ে ৫৬টি আশ্রয় কেন্দ্রসহ বিপুল সংখ্যক উদ্ধারকারী (রেসকিউ) টিম রয়েছে। আমরা সতর্ক দৃষ্টি  রাখছি। উপজেলার সকল জনপ্রতিনিধিদের জরুরি বার্তা দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা আছে। তবে গেল বছরের ভয়াবহ বন্যার আতংকে এ বছরও শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় এর রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কিছুটা বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে।

       


এসএ/সিলেট