উপজেলা নির্বাচন : তৃতীয় ধাপে সিলেট বিভাগের নির্বাচিতরা

post-title

ফাইল ছবি

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের তৃতীয় ধাপে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক ও দোয়ারা বাজার;  সিলেট জেলার বালাগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার; মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল; হবিগঞ্জ জেলার লাখাই, সদর ও শায়েস্তাগঞ্জে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই ১০ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল। বুধবার সকাল ৮টা থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এই উপজেলা গুলোতে তিন পদেই বেশ কয়েকজন নতুন প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।


বিয়ানীবাজার :
বিয়ানীবাজারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পরাজিত করে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবুল কাশেম পল্লব। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২০ হাজার ১৯৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ গৌছ উদ্দিন শালিক প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৫৬০ ভোট। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান খান (টেলিফোন) ৪ হাজার ৯৫৭ ভোট এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মকসুদুল ইসলাম (মোটসাইকেল) পেয়েছেন ১৬ হাজার ১১ ভোট।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন খাঁন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ৮৯টি কেন্দ্রে বই প্রতীকে মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন খাঁন পেয়েছেন ২০ হাজার ৯২৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ নেতা আশরাফুল হক রুনু বাল্ব প্রতীকে পেয়েছেন ১৩ হাজার ২৪১ ভোট।

এছাড়া উড়োজাহাজ প্রতীকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. খালেদুর রহমান পেয়েছেন ৭ হাজার ৫৬৩ ভোট। টিউবওয়েল প্রতীকে মৎস্যজীবী নেতা জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ৭ হাজার ৫৬৩ ভোট।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সায়দুল ইসলাম মাইক প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৩৬৫ ভোট। টিয়াপাখি প্রতীকে সাবেক ফুটবলার জামাল উদ্দিন পেয়েছেন ৫ হাজার ২০ ভোট।

চশমা প্রতীকে যুবলীগ নেতা সুহেল আহমদ রাশেদ পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৬৭ ভোট এবং তালা প্রতীকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পলাশ হোসেন আফজাল পেয়েছেন ২ হাজার ১৬৭ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেসমিন নাহার বিজয়ী হয়েছেন। ৮৯টি কেন্দ্রের সবকয়টির কেন্দ্র ভিত্তিক ঘোষিত ফলাফলে তিনি ২০ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে।

বালাগঞ্জ :
বালাগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে প্রথমবারের মতো প্রার্থী হয়েই চমক দেখিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বোয়ালজুড় ইউনিয়ন পরিষদের ৪ বারের চেয়ারম্যান আনহার মিয়া। তিনি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান মফুরকে প্রায় আড়াই হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী আনহার মিয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২১ হাজার ৩৩৮ ভোট এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোস্তাকুর রহমান মফুর কাপপিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ২৯৩ ভোট। এছাড়া নির্বাচনে অপর প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা যুবলীগের সহ- সভাপতি সামস উদ্দিন সামস ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ১৩৯ ভোট।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে জয়লাভ করেছেন সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা সৈয়দ আলী আছগর (বৈদ্যুতিক বাল্ব)। তিনি পেয়েছেন ১৬ হাজার ২২১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ মো. জাকারিয়া জাবের (টিউবওয়েল) পেয়েছেন ১৫ হাজার ৫৭০ ভোট। অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে মোস্তাক উদ্দিন আহমদ (চশমা) ৭ হাজার ৭৯৯ ভোট, নুরে আলম (মাইক) ২ হাজার ৯৬ ভোট এবং মোশাহিদ আলী (তালা) ২ হাজার ৩৮ ভোট পেয়েছেন ।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২জন প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সেবু আক্তার মনি (ফুটবল) ২৮ হাজার ৫৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী অপর্ণা রাণী দেব (কলস) পেয়েছেন ১৫ হাজার ১২৪ ভোট ।

ফেঞ্চুগঞ্জ :
ফেঞ্চুগঞ্জে আশফাকুল ইসলাম শাব্বির উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। আনারস প্রতীকে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি আশফাকুল ইসলাম শাব্বির পেয়েছেন ১২ হাজার ১৯৭ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাপ পিরিছ প্রতিকে মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম পেয়েছেন ১১ হাজার ৭৭৭ ভোট।

মাইক প্রতীকে বিজয়ী ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ১৪ হাজার ৮৩১ ভোট ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টিউবওয়েল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৭১ ভোট।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন ডালিয়া ইসলাম (হাস) তার প্রাপ্ত ভোট ১৮৬৬৬টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা: মোহিনী বেগম পেয়েছেন ৭৮৮১টি ভোট ও ইয়াসমিন জাহান তন্বী (ফুটবল) পেয়েছেন ৫৬৫৯টি ভোট।

সুনামগঞ্জ (ছাতক) :
কাপপিরিচ প্রতীকে ৪০ হাজার ৩২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন রফিকুল ইসলাম কিরন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওলাদ আলী রেজা আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৩৪৪ ভোট।

এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে কাজী আব্দুস সামাদ চশমা প্রতীকে ৪৩ হাজার ৪০৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইজাজুল হক রনি পেয়েছেন ১১ হাজার ১৪১ ভোট।

উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন লিপি বেগম।

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) :
দোয়ারাবাজারে পুনরায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের দেওয়ান আল তানভীর আশরাফী চৌধুরী। তিনি আনারস প্রতীকে ২৫ হাজার ৬৬১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির বহিস্কৃত নেতা ও বগুলা বাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম (দোয়াত কলম) পেয়েছেন ২১ হাজার ২২৯ ভোট।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন মো. আবু বকর সিদ্দিক (বৈদ্যুতিক বাল্ব)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মো. বশির আহমদ (চশমা)।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন মোছা: শিরিনা বেগম (হাঁস)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বেগম শামসুন নাহার (ফুটবল)।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) :
কমলগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে কৃষি মন্ত্রী উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এর ছোট ভাই কমলগঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল (মোটরসাইকেল) ৪৬ হাজার ৬৪০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান (আনারস) ৩০ হাজার ৭১২ ভোট পেয়েছেন। ৩য় হয়েছেন গীতা রানী কানু (ঘোড়া) পেয়েছেন ২ হাজার ৭৩২ ভোট।

এদিকে, ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোঃ আব্দুল ওহাব (বৈদ্যুতিক বাল্ব) ৩৯ হাজার ৯৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। ততার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নিরঞ্জন দেব (মাইক) পেয়েছেন ১৪ হাজার ৯৬১ ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে মোহাম্মদ আলমগীর চৌধুরী (চশমা) ১০ হাজার ৯৩৬ ভোট, মো. সিদ্দেক আলী (তালা) ৮ হাজার ৩২৯ ভোট এবং সুনীল কুমার মৃধা (টিউবওয়েল) পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৫ ভোট।


মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম (পদ্মফুল) ৪১ হাজার ৬ ৪৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মুন্না দেব রায় (ফুটবল) প্রতীক ভোট পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৯শ ৮১ ভোট।


শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) :
শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভানু লাল রায় বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত ব্যাংক লাদে হয়েছেন। কাপ-প্লেট প্রতীকে তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৪২ হাজার ৬৬৯। তিনি বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আছকির মিয়া মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮৭৬ ভোট।

এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক রাজু দেব রিটন। তিনি তালা প্রতীক নিয়ে মোট ভোট পান ৫৮ হাজার ৭৬০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ লিটন আহমেদ টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে ভোট পান ২০ হাজার ৯৯২ ভোট।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন হাজেরা খাতুন। তিনি হাঁস মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৫০ হাজার ৭৩৩। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মিতালী দত্ত ৩৪ হাজার ৫০১ ভোট পান।

হবিগঞ্জ সদর :
চেয়ারম্যান পদে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন মোকাব্বিরুল ইসলাম। তিনি বর্তমান চেয়ারম্যান ও হবিগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। আনরস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৪১৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান শামিম কাপপিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৭১৫ ভোট।

লাখাই (হবিগঞ্জ) :
চেয়ারম্যান পদে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামীলীগের মো. মুশফিউল আলম আজাদ। কৈ মাছ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩২ হাজার ৯২২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৪৪৫ ভোট। এছাড়া ইকরামুল মজিদ চৌধুরী(ঘোড়া) পেয়েছেন ৭ হাজার ৪৬ ভোট এবং মো. আমিরুল ইসলাম(আনারস) পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৪৮ ভোট।

শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) :
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল মটর সাইকেল প্রতীকে ১৫ হাজার ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান মাসুক ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১১ হাজার ৭৫৯ ভোট।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আ স ম আফজাল আলী টিয়া প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১০ হাজার ৪৫১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চশমা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভোট পেয়েছেন ৬ হাজার ৫৮৮ ভোট।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মমতাজ বেগম ডলি প্রজাপতি প্রতীকে ১৪ হাজার ২৯৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রুবিনা আক্তার রুবি ভোট পেয়েছেন ১০ হাজার ২৪৮।

এসএ/সিলেট