ভারত থেকে নামা ঢল

সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে

post-title

ছবি সংগৃহিত

টানা বৃষ্টি ও ভারতের ঢলে সিলেটের নদনদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। এরই মধ্যে সিলেটের কানাইঘাট ও সদর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পানি বাড়তে থাকায় সিলেট অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আমাদের কানাইঘাট প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে হঠাৎ ঢল নামা শুরু হয়। দ্রুত পানি বাড়তে থাকায় সকালের মধ্যে কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। বৃহস্পতিবার (২ মে) বিকেল ৩টায় এই কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে ৫৪ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে বলে জানা গেছে
এদিকে, সিলেটেও সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। বিকেল ৩টায় সুরমা নদীর সিলেট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই পয়েন্টে পানি ৯৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। রাত ৮টার মধ্যে এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সারিগোয়াইন নদী সারিঘাট পয়েন্টে সকাল ৯টায় ১১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে বিকেল ৩টায় তা নেমে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হয়।
এছাড়াও সারিগোয়াইন নদী গোয়াইনঘাট উপজেলা সদর পয়েন্টে বিপদসীমার ৬২ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে জকিগঞ্জের অমলসীদে কুশিয়ারা নদীর পানি ১১৮ সেন্টিমিটার ও বিয়ানীবাজারের শেওলা পয়েন্টে ৬৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে। একইসময়ে কানাইঘাটের লোভাছড়া নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আমাদের জৈন্তাপুর প্রতিনিধি জানান, ভারত থেকে নামা উজানি ঢলে উপজেলার নিজপাট ও জৈন্তাপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে হাওরের বোরো ধান৷
প্লাবিত এলাকার মধ্যে রয়েছে নয়াবাড়ি, ফুলবাড়ি, কেন্দ্রী, ডিবিরহাওর, ঘিলাতৈল, মুক্তাপুর, বিরাইমারা হাওর, খারুবিল, চাতলারপাড়, ডুলটিরপাড়, ১নং লক্ষীপুর, ২নং লক্ষীপুর, আমবাড়ি, ঝিঙ্গাবাড়ি, কাঠালবাড়ির নিম্নাঞ্চল।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালিক রুমাইয়া বলেন, ‘জৈন্তাপুর উপজেলায় অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হয়। পাহাড়ি ঢলের সাথে টানা বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। আমরা বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং জনসাধারণকে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে।’

SI/01/030524