সিলেটে একমাত্র নারী হিসাবে ইতিহাস গড়লেন তাহসিনা রুশদীর লুনা!

post-title

ছবি সংগৃহীত

এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের মধ্যে একমাত্র নারী হিসাবে ইতিহাস গড়লেন নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলী সহধর্মীনি তাহসিনা রুশদির লুনা।  স্বাধীনতার পর থেকে সরাসরি ভোটের মাঠে সিলেট ২ আসনে তিনিই প্রথম নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।

বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১০ দলীয় জোটের মুনতাসীর আলী কে পরাজিত করে বিজয়ের হাঁসি হাসলেন তিনি। দুই উপজেলার ১২৮ ভোট কেন্দ্রে তাহসিনা রুশদির লুনা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন মোট ১,১৬,৬৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দেয়ালঘড়ি মার্কায় পেয়েছেন ৩৭,৪৪৬ ভোট। ৭৯,২৫১ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারি ভাবে তাহসিনা রুশদির লুনা বিজয় অর্জন করেছেন।

সিলেট -২ (বিশ্বনাথ ওসমানী নগর) আসনে অপর তিন প্রার্থী মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ আমির উদ্দিন পেয়েছেন ১,৩৪৯ ভোট, গণফোরামের প্রার্থী মোঃ মুজিবুল হক সূর্য প্রতীকে পেয়েছেন মোট ৬৩২ ভোট এবং জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১,৪০৪ ভোট।

প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিশাল ভোটের ব্যবধানে এম ইলিয়াস আলী (লুনার স্বামী) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১২ সালের ১৭ ই এপ্রিল এম ইলিয়াস আলীকে প্রকাশ্যে গুম হন। বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসাবে মনোনীত হন ইলিয়াস পত্নী লুনা। এরপর দীর্ঘদিন ধরে নেতাকর্মীদের সুখে দুঃখে পাশে থাকেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নেতাকর্মীরা তাকে নির্বাচিত করে ভালবাসার প্রতিদান দিয়েছেন।

স্বামীর জনপ্রিয়তা আর দূর্দিনে দীর্ঘদিন ধরে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার প্রতিদান হিসেবে তাকে সংসদে পাঠিয়েছেন এই আসনের দলীয় সমর্থক ও সাধারণ ভোটাররা। ইলিয়াস আলীর অসমাপ্ত উন্নয়ন তার হাত ধরে পরিপূর্ণতা পাবে এমন আশাবাদী এই আসনের মানুষ। তাকে বিজয়ী ঘোষণা করার পরপর সাংবাদিকদের তিনি জানান, একটা নামের উপর তিনি বিজয়ী হয়েছেন। নামটা হল তার স্বামী নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলী। তিনি তার স্বামীর মতো মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাবেন বলে জানান।

এসএ/সিলেট