সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

দক্ষিণ সুরমায় পৈত্রিক ও স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পর স্বামীর সম্পত্তিও দখলে নেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আপন ভাই। এমন পরিস্থিতি স্বামী-সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ভুক্তভোগী ওই পরিবার।

শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন দক্ষিণ সুরমা মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের উপরহাজরাই গ্রামের বাসিন্দা রোকসানা বেগম। বর্তমানে তিনি নগরীর রায়হোসেন এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন।

রোকসানা বেগম জানান, তার স্বামীর নাম মো. আলা উদ্দিন। আমরা তিন বোন ও দুই ভাই। এর মধ্যে জীবিত আছি আমি এবং আমার একমাত্র ভাই আমির আহমদ মানিক। আমার ১ ছেলে ও ৪ মেয়ে। আমার ভাই আমির আহমদ মানিক সারাজীবন ভোগ বিলাসে মত্ত থাকলেও বোনদের প্রতি বা মা বাবার প্রতি দায়িত্বশীল ছিলেন না।

তিনি যুক্তরাজ্য আর বাংলাদেশে যাতায়াত করলেও কখনো কাউকেই দেখাশোনা করেননি। কিন্তু ভাই হিসাবে আমার দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে তিনি আমি ও আমার স্বামী এবং সন্তানদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেন। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে একাধিক মামলা করেছেন। যা নম্বর হচ্ছে জিআর মামলা নং ২০৭৬/২০১৩, কোতোয়ালি জিআর ২৭৭/২০১৩, কোতোয়ালি জিআর ২৭৮/২০১৩, দায়রা মামলা নং ১৭১/২০১৪, দায়রা মামলা নং ২৭৭/২০১৪, দায়রা মামলা নং ৪০৬/২০১৪, দায়রা মামলা নং ৪০৫/২০১৪, দায়রা মামলা নং ৪০৮/২০১৪ দায়ের করেন। এত এত মামলা মোকাবেলা করতে আর্থিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে এখন পথে নামার অবস্থায় জীবন যাপন করছি।

তিনি বলেন, কেবল মামলা দিয়েই শেষ নয় আমি ও আমার পরিবারকে হত্যা ও গুমের হুমিক দিচ্ছে বারবার। তার এই হুমকিতে পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীন জীবনযাপন করছি।

রোকসানা বেগম বলেন, আমার ভাই জাল স্বাক্ষরে 'হেবা সম্পাদন' করে নিজেই পৈতৃক সম্পত্তি দখলে নিয়ে নেন এবং আমাকে বঞ্চিত করেন। তিনি এতই নিষ্ঠুর যে আমার মায়ের মরা মুখটাও আমাকে দেখতে বাধা দেন। তিনি শুধু পৈতৃক সব সম্পদ থেকেই বঞ্চিত করেননি, আমার নানার সম্পত্তিও একাই ভোগ করছেন। আমার কোনো মামা নেই। দুই খালা ছিলেন। বিধবা হওয়ার পর তারাও নানারবাড়ি চলে এলে আমি এবং আমার স্বামীই তাদের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেছি। অথচ আজ আমাদেরকে সব দিক থেকেই তিনি বঞ্চিত করেছেন।

আমার স্বামী-সন্তান নিয়ে জীবনযাপন করবো-তারও কোনো উপায় রাখছেন না তিনি। এখন তিনি আমার স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লিজা এন্টারপ্রাইজ থেকেও আমাদের বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। সপ্তাহ খানেক আগে তিনি সেন্ট্রাল প্লাজা মার্কেটে গিয়ে কমিটিকে বলে এসেছেন, তার কাছে নাকি মালিকপক্ষ দোকানটি হস্তান্তর করে দিয়েছেন। এ অবস্থায় আমরা দ্রুত দোকানটি না ছাড়লে আমাদের জানমালের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। তার এ হুমকিতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

বিষয়টি দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে একটি অসহায় পরিবারের জীবন সংসার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান রোকসানা বেগম।


এসএ/সিলেট