কোম্পানীগঞ্জে ভারতীয় মদের বড়...
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে থানা পুলিশের অভিযানে একটি নোহা গাড়ি ভর্তি ১২২৫ বোতল ভারতীয় বিভিন্ন ব্রান্ডের মদসহ দুই জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার...
গ্রেফতার হয়নি হত্যাকারীরা
হত্যাকারী শাকিল ও সুমন। (গোল বৃত্তে নিহত ছয়ফুল)।
ইয়াবা বিক্রির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে গত রবিবার সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের রাতাছড়া গ্রামে খুটিতে বেঁধে ছয়ফুল (১৯) কে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকাজুড়ে জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
হত্যাকান্ডের ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ছয়ফুল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত কোন ঘাতককে গ্রেফতার করতে পারেনি থানা পুলিশ।
ছয়ফুল হত্যার পরদিন সোমবার সকালে তার স্বজনরা ও সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীরা হত্যাকারী সাকিল আহমদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে। হত্যাকারী সাকিল আহমদের পিতা আব্দুল হান্নান হানাইকে আটক করে থানা পুলিশে দিয়েছেন তারা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে চোরাইপথে আনা ইয়াবা বিক্রি ২ লক্ষ টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে এ নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানান, রাতাছড়া গ্রামের মৃত ছলু মিয়ার পুত্র ছয়ফুল ইসলাম ও একই গ্রামের আব্দুল হানাইর পুত্র সাকিল আহমদ ও তাদের সহযোগী সুমন আহমদ একই সাথে দীর্ঘদিন থেকে সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক দ্রব্য ইয়াবা সহ বিভিন্ন ধরনের চোরাই পণ্য দেশে এনে বিক্রি করত।
সম্প্রতি ইয়াবা বিক্রির ২ লক্ষ টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ছয়ফুল ইসলামের সাথে সাকিল আহমদ ও সুমন আহমদের বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে গত রবিবার সন্ধ্যার দিকে ছয়ফুলকে বাড়ির সামনে থেকে সাকিল আহমদ ও সুমন আহমদ ধরে এনে সাকিলের বাড়ির বারান্দার একটি খুঁটিতে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। ঐ সময় টাকা লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতন্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে সাকিল আহমদ ও তার সহযোগী সুমন আহমদ ধারালো দা দিয়ে ছয়ফুলের মাথায় উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা ছয়ফুলকে আশঙ্কা জনক অবস্থায় উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কানাইঘাট থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে ছয়ফুলের লাশ ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেন।
থানার ওসি আব্দুল আউয়াল জানিয়েছেন, ছয়ফুল হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি। হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে সীমান্তবর্তী এলাকা সহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। হত্যাকারী সাকিল আহমদের পিতাকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে দিয়েছেন, তাকে হত্যাকান্ডের ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছেন, কাড়াবাল্লা, রাতাছড়া সহ আশপাশের সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারীরা বর্তমানে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এসব চিহ্নিত চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কোন ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এ নিয়ে হত্যাকান্ড সহ প্রায়ই মারামারির ঘটনা ঘটে থাকে।
এসএ/সিলেট