বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ওডিআই সিরিজ

সাকিব মানেই অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ

post-title

ছবি: বিসিবি

সাকিবের ভালো পারফরম্যান্স মানে বাংলাদেশ দলের জয় প্রায় নিশ্চিত! বিশ্বসেরা অলরাউন্ডর সাকিব আল হাসানের মতো এবার টাইগার দলে যোগ হয়েছে আরেক সাকিবের নাম; যার পুরো নাম তানজিম হাসান সাকিব। অভিষেকের পর থেকে তার ভালো বোলিংয়ে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে টাইগাররা।

ধরা যাক- আজকের বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ। কথাটা যে সত্য তার জন্য আজকের স্কোরকার্ডটাকে ধরে নিতে পারেন এর সর্বশেষ প্রমাণ।

বাংলাদেশের তিন পেসার তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন। কিন্তু তানজিমের ৩ উইকেটের যে বিশেষত্ব, তা একেবারে আয়নার মতো পরিষ্কার।

সোজাসাপটা বলে দেওয়া যায়—তানজিম ওই ৩ উইকেট না পেলে তাসকিন বা শরীফুলের ৩ উইকেট পাওয়ার মতো পরিস্থিতিই হয়তো তৈরি হতো না জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের এই ম্যাচে। আরও সরল ব্যাখ্যা চান? তাহলে বলতে হয়, শ্রীলঙ্কার ২৫৫ রানের ইনিংসটাকেই দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছেন সাকিব ডাকনামের তরুণ পেসার তানজিম হাসান। তাঁর ৩ উইকেট নেওয়ার আগে ও তাঁর ৩ উইকেট নেওয়ার পরে।

আভিস্কা ফার্নান্ডো আর পাতুম নিশাঙ্কা যেভাবে শুরু করেছিলেন, চট্টগ্রামের উইকেটে এমন শুরুর পর শ্রীলঙ্কার রানটা ৩০০ ছাড়িয়ে যাওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু হঠাৎই তাতে একটা ছন্দপতন এবং সেটা ওই তানজিমের কারণেই। নিজের পরপর ৩ ওভার এবং ইনিংসের ১০, ১২ ও ১৪ নম্বর ওভারে তিনটি আঘাতে রীতিমতো কাঁপিয়ে দিলেন শ্রীলঙ্কাকে। বিনা উইকেটে ৭১ থেকে দেখতে না দেখতেই ৮৪ রানে নেই ৩ উইকেট! ওই ধাক্কাতেই নড়বড়ে হয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। পরে তাসকিন-শরীফুলও উইকেট নিতে শুরু করায় শেষ পর্যন্ত ৭ বল বাকি থাকতে ২৫৫ রানে তো অলআউটই!

ম্যাচশেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে মুশফিকুর রহিমও তানজিমের ওই ৩ উইকেটের মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে এটিতে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট বলে চিহ্নিত করলেন, ‘সাকিব (তানজিম) পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। টার্নিং পয়েন্ট সেটিই। তিনটা উইকেট ভালো সময়ে নিয়েছে। পরে তাসকিন, শরীফুলরাও ভালো করেছে।’

গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে কলম্বোয় এশিয়া কাপের ম্যাচে তানজিমের ওয়ানডে অভিষেক। এদিন খেলতে নেমেছেন ষষ্ঠ ম্যাচ। এই ছয় ম্যাচে নিজেকে ভালোই চিনিয়েছেন। ভারতের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শূন্য রানে। পরে তিলক বর্মাকেও করেন বোল্ড। ম্যাচটাও জিতেছিল বাংলাদেশ। ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে একটা ম্যাচই খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তানজিম এবং সেটা এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই। ১০ ওভারে রান (৮০) একটু বেশি দিয়ে ফেললেও সেই ম্যাচেও ৩ উইকেট ছিল তাঁর। বাংলাদেশ জিতেছিল সেই ম্যাচও।

এই একটা ব্যাপার যেন নিয়মই হয়ে গেছে। তানজিম যে ম্যাচে ভালো বোলিং করবেন বা উইকেট পাবেন, সেই ম্যাচ বাংলাদেশই জিতবে। যে ৬টি ওয়ানডে খেলেছেন, তার একটি বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। বাকি পাঁচটির চারটিতে জিতেছে বাংলাদেশ, সেই চারটিতেই বলার মতো ভূমিকা তানজিমের বোলিংয়ের।

এশিয়া কাপে ভারত আর বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা ম্যাচের কথা তো বলাই হলো। বিশ্বকাপের আগে দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে কোনো উইকেট পাননি তানজিম। বৃষ্টির কারণে সেই ম্যাচ ফলাফলই দেখেনি। বাকি দুটি ওয়ানডে গত ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফরে। নেলসনের ম্যাচে ৬ ওভার বোলিং করে তানজিম ছিলেন উইকেটশূন্য, বাংলাদেশও ম্যাচ হেরেছে। কিন্তু নেপিয়ারের পরের ম্যাচেই ৭ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তানজিদ। নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ৯৮ রানে থামিয়ে বাংলাদেশ সেই ম্যাচ জেতে ৯ উইকেটে। পেয়েছিলেন ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও।

তার মানে কি তানজিদের ভালো বোলিং মানেই বাংলাদেশের জয়? এ ম্যাচের পর কথাটা আরও জোর দিয়েই বলা যায়।

SI/02/140324