মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে ২ লাখ মানুষ পানিবন্দী

post-title

ছবি সংগৃহীত

গত কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারের ছয় উপজেলার  প্লাবিত হয়েছে। এতে মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে প্রায় ২ লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে বড়লেখার ১০টি, জুড়ীর ছয়টি, কুলাউড়ার ছয়টি, সদরের চারটি ও রাজনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন, শ্রীমঙ্গল পাঁচটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়।  বুধবার (১৯ জুন) সকালে জেলা প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, ঈদের দিন ভোররাত থেকেই জেলাজুড়ে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণ এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। পাহাড়ি ঢল ও তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে জেলার ছয় উপজেলার ৫ পৌরসভাসহ ৩৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত জেলাজুড়ে ৪৩২টি গ্রাম ও এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রাম ও এলাকার ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯০ জন মানুষ বন্যা আক্রান্ত। এছাড়া ৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া বন্যার্তদের জন্য ত্রাণও প্রস্তুত রয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল জানান, জেলার সবগুলো নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম গণমাধ্যমকে জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এর মধ্যে কুলাউড়া, রাজনগর, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার ৫৭১টি পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। বন্যা মোকাবেলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।


এসএ/সিলেট